ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটির মেগা প্রকল্প

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / 53

২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় নেটওয়ার্কের ভৌত অবকাঠামো পুনর্বাসন ও আধুনিকায়নে ২ হাজার ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন করা হবে সরকারি তহবিল থেকে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জরাজীর্ণ রেললাইন সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক রেল সংযোগ শক্তিশালী করা।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বড় ধরনের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ রেললাইন, ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার এবং ব্যালাস্টের ঘাটতি মেটাতে মূলত পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, ২০৩১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন চলাচলের গতি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অনেক লাইন ১৯৩০ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে স্থাপিত, যা বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে। অনেক অংশে রেললাইনের ক্ষয়ের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্লিপার অকেজো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প এর আওতায় ভবানীপুর থেকে এমজিএমসিএল পর্যন্ত ২১.৪৯২ কিলোমিটারসহ মোট ৫০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইনে রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কাজ চালানো হবে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ১১টি জেলা এই প্রকল্পের সুফল পাবে।

এই প্রকল্পটি কেবল অভ্যন্তরীণ যাতায়াত নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক রেল সংযোগ জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বেনাপোল, দর্শনা ও চিলাহাটির মতো স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহন আরও সহজতর হবে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক এবং বিবিআইএন-এর মতো আঞ্চলিক কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে বলা যায়, এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া দেশের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটির মেগা প্রকল্প

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় নেটওয়ার্কের ভৌত অবকাঠামো পুনর্বাসন ও আধুনিকায়নে ২ হাজার ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন করা হবে সরকারি তহবিল থেকে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জরাজীর্ণ রেললাইন সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক রেল সংযোগ শক্তিশালী করা।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বড় ধরনের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ রেললাইন, ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার এবং ব্যালাস্টের ঘাটতি মেটাতে মূলত পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, ২০৩১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন চলাচলের গতি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অনেক লাইন ১৯৩০ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে স্থাপিত, যা বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে। অনেক অংশে রেললাইনের ক্ষয়ের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্লিপার অকেজো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প এর আওতায় ভবানীপুর থেকে এমজিএমসিএল পর্যন্ত ২১.৪৯২ কিলোমিটারসহ মোট ৫০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইনে রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কাজ চালানো হবে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ১১টি জেলা এই প্রকল্পের সুফল পাবে।

এই প্রকল্পটি কেবল অভ্যন্তরীণ যাতায়াত নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক রেল সংযোগ জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বেনাপোল, দর্শনা ও চিলাহাটির মতো স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহন আরও সহজতর হবে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক এবং বিবিআইএন-এর মতো আঞ্চলিক কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে বলা যায়, এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া দেশের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।