ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবেশ-সুযোগ বদলে দিতে পারে জীবন

রীতা ভৌমিক, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 138

সুন্দর পরিবেশ আর একটু সুযোগ বদলে দিতে পারে বস্তিতে বেড়ে ওঠা বালক-বালিকাদের জীবন। তারাও লেখাপড়া, খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা, দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারে। মিরপুর ১২ বেগুনটিলা বালক-বালিকা ফুটবল দল ও বাউনিয়াবাধ বালক-বালিকা ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা খেলাধুলার মাধ্যমে পরিবর্তন এনেছে তাদের জীবনে।

বেগুনটিলা কিশোরী দলের ফুটবল ডিফেন্ডার আশামনি। স্থানীয় গ্রিন ঢাকা এডকেয়ার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনির শিক্ষার্থী। থাকেন মিরপুর ১২ বেগুনটিলা বস্তিতে। বাবা মিরপুর ১২ এর একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরীর কর্মী। মা কারচুপির কাজ করেন। দুই বোনের মধ্যে আশামনি ছোট।

২০২৫ সালে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের স্পিরিট প্রকল্পের আওতায় বেগুনটিলা বালিকা ফুটবল দলে যোগ দেয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবলেও সেরাটা দিচ্ছে।

আশামনির (১৪) মতে, সপ্তাহে একদিন কোচ আমেনা বেগুনটিলা মাঠে আমাদেরকে ফুটবল অনুশীলন করান। আমরা দুই বোন হওয়ায় বাবা-মাও আমাদের উৎসাহ দেন যাতে আমরা নিজেদেরকে তৈরি করতে পারি।

বাউনিয়াবাঁধ সি ব্লকের বস্তিতে থাকেন সোয়াইবা। গোল্ডেন বাংলা আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেনির শিক্ষার্থী। ১ নম্বর জার্সি পরে খেলে সে। দক্ষ গোলকিপার হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। বাউনিয়াবাধ বালিকা ফুটবল দলের হয়ে খেলে সে। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। অটোচালক বাবা আর গৃহিণী মা স্বল্প আয়ের সংসারেও মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।

সোয়াইবা জানান, আশপাশের লোকেরা আব্বু-আম্মুকে বলেছেন মেয়ে ফুটবল খেলবে! এটা হয় নাকি। কিন্তু আব্বু-আম্মু তাদের কথা শোনেননি। তারা চেয়েছেন আমি যাতে লেখাপড়া, খেলাধুলা সমানভাবে করি।

মিরপুর কালশী ২ নম্বরে গ্রিন ঢাকা এডকেয়ারের অষ্টম শ্রেনির শিক্ষার্থী সুরভী আক্তার। পরিবারের সাথে থাকেন বেগুনটিলা বস্তিতে ভাড়া ঘরে। দুই বোনের মধ্যে ছোট ও। বড় বোন একজন গার্মেন্ট কর্মী। বোনই তাকে ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করে।
সুরভী আক্তার (১৫) জানান, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কোচ আমাদের অনুশীলন করায়। এই অনুশীলন আমাদের স্কুলের ফুটবল খেলায় অংশ নিতে কাজে লেগেছে।

এ ব্যাপারে কোচ নিপা আক্তার জানালেন, ২০২২ থেকে জার্সি পরে এখানকার মেয়েরা ফুটবল, হ্যান্ডবল খেলছে। প্রথমদিকে মেয়েরা খেলায় আসতে চায়নি। অভিভাবকরা মেয়েদের খেলতে দিতে ভয় পেতেন।

সমাজ কি বলবে! চার বছরে এলাকার মানুষের চিন্তাভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রথম দিকে যারা খেলেছে তাদের দেখাদেখি এখন মেয়েরা স্বতস্ফূর্তভাবে খেলায় অংশ নিচ্ছে।

অভিভাবকরাও এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কারণ খেলার মাধ্যমে তাদের মেয়েদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ ঘটছে। তবে মেয়েদের আলাদা খেলার মাঠ না থাকায় অনুশীলন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়ে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খেলার মাঠে ওরা খেলে থাকে।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের স্পিরিট প্রকল্পের আওতায় প্রথম দিকে বস্তির মেয়েদের ফুটবল, হ্যান্ডবল খেলায় যুক্ত করাটা অতোটা সহজ ছিল না। তাদের অভিভাবকদের বোঝাতে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে জানালেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের জান্নাতুল ফেরদৌস।
মেয়েদের খেলাধুলার পাশাপাশি ছেলেরাও খেলাধুলায় ভালো করছে।

বাউনিয়াবাধ হ্যান্ডবল টিমের রাইট উইনের খেলোয়ার জুবায়ের হোসেন। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সহযোগিতায় বছর খানেক ধরে জাতীয় হ্যান্ডবল ফেডারেশনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সপ্তাহে দুদিন প্রশিক্ষণ নেয়।

কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেনি পযন্ত পড়ার পর আর স্কুলমুখী হয়নি। অবশেষে বাবা তাকে ওয়ালিং ইঞ্জিনিয়ারিং এ কাজে লাগিয়ে দেয়। কারণ রিকশা চালক বাবার একার আয়ে সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের সাথে জুবায়ের থাকেন বাউনিয়াবাধ সি ব্লকের বস্তিতে একটি ভাড়া ঘরে।

জুবায়ের হোসেন (১৮) বলেন, স্কুলে স্যার, ম্যাডামরা ভীষণ মারত। সেই ভয়ে স্কুল ছাড়ি। কিন্তু খেলাধুলা করতে ভালোবাসি। ২০২২ সালে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের হ্যান্ডবল টিমে যোগ দিই। গতবছর বেগুনটিলা হ্যান্ডবল দলের সাথে প্রতিযোগিতায় বাউনিয়াবাধ চ্যাম্পিয়ন হয়। আমি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হই।

ফুটবল খেলোয়াড় সোয়েব। জন্ম থেকেই বাম হাতের কনুই’র নিচ থেকে নেই। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছে শক্তি তাকে লেখাপড়া এবং ফুটবল খেলা দুটোই সমানভাবে চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। ২০২৪ সাল থেকে ফুটবল খেলছে সে। গোল্ডেন বাংলা আইডিয়াল স্কুলের কমার্সের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী। বড় ভাইয়ের সাথে থাকেন বাউনিয়াবাঁধ সি ব্লকের বস্তিতে ভাড়া ঘরে।

সোয়েবের (১৮) মতে, বাবা উত্তরায় দারোয়ানের চাকরি করেন। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন। কিন্তু স্কুলের বন্ধুরা তাকে খেলতে নিতো না। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স তাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। ফুটবল খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে চান তিনি।

অভিভাবকরাও বালক-বালিকাদের খেলাধুলাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। বেগুনটিলার হ্যান্ডবল খেলোয়াড় লাভলী আক্তারের মা মোস্মামৎ বেবী জানালেন, আমার এক ছেলে তিন মেয়ে। স্বামী নাইট গার্ডের চাকরি করেন। আর আমি গৃহপরিচারিকার কাজ করি। অভাবের সংসার। অর্থের অভাবে নবম শ্রেনিতে পড়ার সময়ে বড় মেয়ে লাভলীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন মেয়েকে খেলাধূলায় উৎসাহ দিই। খেলাধুলার মাধ্যমে যদি ওরা ওদের ভবিষ্যৎটা গড়তে পারে।


তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা খেলাধুলা করে স্থানীয়রা এ নিয়ে অনেক তিরস্কার করেছে। কিন্তু আমি তাদের কথা কর্ণপাত করিনি। খেলাধুলা করায় আমার মেয়েদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। ওরা ভালো চিন্তা করে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বস্তিতে বসবাসরত মেয়েদেরকে খেলাধুলার পাশাপাশি মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া, বাবা-মার কথা শোনা এবং তাদের শরীরের যতœ নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেসঙ্গে তিনি মোবাইল আসক্তি থেকে ছেলেমেয়েদের দূরে থাকারও পরামর্শ দেন। তিনি এই খেলোয়াড়দের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন ।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবনে সংকট, সমস্যা থাকবে। যে কোনো ধরনের নির্যাতনমূলক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তা থেকে নিজেকে ওরা কিভাবে সুরক্ষিত করবে, খেলাধুলা কিভাবে ওদের সুরক্ষা দেয়, তা খেলাধুলার মাধ্যমেই এই খেলোয়াড়রা জানতে পেরেছে। । এর মধ্য দিয়েই বালক, বালিকাদের নেতৃত্বের বিকাশও হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পরিবেশ-সুযোগ বদলে দিতে পারে জীবন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

সুন্দর পরিবেশ আর একটু সুযোগ বদলে দিতে পারে বস্তিতে বেড়ে ওঠা বালক-বালিকাদের জীবন। তারাও লেখাপড়া, খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা, দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারে। মিরপুর ১২ বেগুনটিলা বালক-বালিকা ফুটবল দল ও বাউনিয়াবাধ বালক-বালিকা ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা খেলাধুলার মাধ্যমে পরিবর্তন এনেছে তাদের জীবনে।

বেগুনটিলা কিশোরী দলের ফুটবল ডিফেন্ডার আশামনি। স্থানীয় গ্রিন ঢাকা এডকেয়ার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনির শিক্ষার্থী। থাকেন মিরপুর ১২ বেগুনটিলা বস্তিতে। বাবা মিরপুর ১২ এর একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরীর কর্মী। মা কারচুপির কাজ করেন। দুই বোনের মধ্যে আশামনি ছোট।

২০২৫ সালে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের স্পিরিট প্রকল্পের আওতায় বেগুনটিলা বালিকা ফুটবল দলে যোগ দেয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবলেও সেরাটা দিচ্ছে।

আশামনির (১৪) মতে, সপ্তাহে একদিন কোচ আমেনা বেগুনটিলা মাঠে আমাদেরকে ফুটবল অনুশীলন করান। আমরা দুই বোন হওয়ায় বাবা-মাও আমাদের উৎসাহ দেন যাতে আমরা নিজেদেরকে তৈরি করতে পারি।

বাউনিয়াবাঁধ সি ব্লকের বস্তিতে থাকেন সোয়াইবা। গোল্ডেন বাংলা আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেনির শিক্ষার্থী। ১ নম্বর জার্সি পরে খেলে সে। দক্ষ গোলকিপার হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। বাউনিয়াবাধ বালিকা ফুটবল দলের হয়ে খেলে সে। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। অটোচালক বাবা আর গৃহিণী মা স্বল্প আয়ের সংসারেও মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।

সোয়াইবা জানান, আশপাশের লোকেরা আব্বু-আম্মুকে বলেছেন মেয়ে ফুটবল খেলবে! এটা হয় নাকি। কিন্তু আব্বু-আম্মু তাদের কথা শোনেননি। তারা চেয়েছেন আমি যাতে লেখাপড়া, খেলাধুলা সমানভাবে করি।

মিরপুর কালশী ২ নম্বরে গ্রিন ঢাকা এডকেয়ারের অষ্টম শ্রেনির শিক্ষার্থী সুরভী আক্তার। পরিবারের সাথে থাকেন বেগুনটিলা বস্তিতে ভাড়া ঘরে। দুই বোনের মধ্যে ছোট ও। বড় বোন একজন গার্মেন্ট কর্মী। বোনই তাকে ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করে।
সুরভী আক্তার (১৫) জানান, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কোচ আমাদের অনুশীলন করায়। এই অনুশীলন আমাদের স্কুলের ফুটবল খেলায় অংশ নিতে কাজে লেগেছে।

এ ব্যাপারে কোচ নিপা আক্তার জানালেন, ২০২২ থেকে জার্সি পরে এখানকার মেয়েরা ফুটবল, হ্যান্ডবল খেলছে। প্রথমদিকে মেয়েরা খেলায় আসতে চায়নি। অভিভাবকরা মেয়েদের খেলতে দিতে ভয় পেতেন।

সমাজ কি বলবে! চার বছরে এলাকার মানুষের চিন্তাভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রথম দিকে যারা খেলেছে তাদের দেখাদেখি এখন মেয়েরা স্বতস্ফূর্তভাবে খেলায় অংশ নিচ্ছে।

অভিভাবকরাও এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কারণ খেলার মাধ্যমে তাদের মেয়েদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ ঘটছে। তবে মেয়েদের আলাদা খেলার মাঠ না থাকায় অনুশীলন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়ে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খেলার মাঠে ওরা খেলে থাকে।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের স্পিরিট প্রকল্পের আওতায় প্রথম দিকে বস্তির মেয়েদের ফুটবল, হ্যান্ডবল খেলায় যুক্ত করাটা অতোটা সহজ ছিল না। তাদের অভিভাবকদের বোঝাতে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে জানালেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের জান্নাতুল ফেরদৌস।
মেয়েদের খেলাধুলার পাশাপাশি ছেলেরাও খেলাধুলায় ভালো করছে।

বাউনিয়াবাধ হ্যান্ডবল টিমের রাইট উইনের খেলোয়ার জুবায়ের হোসেন। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সহযোগিতায় বছর খানেক ধরে জাতীয় হ্যান্ডবল ফেডারেশনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সপ্তাহে দুদিন প্রশিক্ষণ নেয়।

কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেনি পযন্ত পড়ার পর আর স্কুলমুখী হয়নি। অবশেষে বাবা তাকে ওয়ালিং ইঞ্জিনিয়ারিং এ কাজে লাগিয়ে দেয়। কারণ রিকশা চালক বাবার একার আয়ে সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের সাথে জুবায়ের থাকেন বাউনিয়াবাধ সি ব্লকের বস্তিতে একটি ভাড়া ঘরে।

জুবায়ের হোসেন (১৮) বলেন, স্কুলে স্যার, ম্যাডামরা ভীষণ মারত। সেই ভয়ে স্কুল ছাড়ি। কিন্তু খেলাধুলা করতে ভালোবাসি। ২০২২ সালে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের হ্যান্ডবল টিমে যোগ দিই। গতবছর বেগুনটিলা হ্যান্ডবল দলের সাথে প্রতিযোগিতায় বাউনিয়াবাধ চ্যাম্পিয়ন হয়। আমি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হই।

ফুটবল খেলোয়াড় সোয়েব। জন্ম থেকেই বাম হাতের কনুই’র নিচ থেকে নেই। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছে শক্তি তাকে লেখাপড়া এবং ফুটবল খেলা দুটোই সমানভাবে চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। ২০২৪ সাল থেকে ফুটবল খেলছে সে। গোল্ডেন বাংলা আইডিয়াল স্কুলের কমার্সের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী। বড় ভাইয়ের সাথে থাকেন বাউনিয়াবাঁধ সি ব্লকের বস্তিতে ভাড়া ঘরে।

সোয়েবের (১৮) মতে, বাবা উত্তরায় দারোয়ানের চাকরি করেন। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন। কিন্তু স্কুলের বন্ধুরা তাকে খেলতে নিতো না। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স তাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। ফুটবল খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে চান তিনি।

অভিভাবকরাও বালক-বালিকাদের খেলাধুলাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। বেগুনটিলার হ্যান্ডবল খেলোয়াড় লাভলী আক্তারের মা মোস্মামৎ বেবী জানালেন, আমার এক ছেলে তিন মেয়ে। স্বামী নাইট গার্ডের চাকরি করেন। আর আমি গৃহপরিচারিকার কাজ করি। অভাবের সংসার। অর্থের অভাবে নবম শ্রেনিতে পড়ার সময়ে বড় মেয়ে লাভলীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন মেয়েকে খেলাধূলায় উৎসাহ দিই। খেলাধুলার মাধ্যমে যদি ওরা ওদের ভবিষ্যৎটা গড়তে পারে।


তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা খেলাধুলা করে স্থানীয়রা এ নিয়ে অনেক তিরস্কার করেছে। কিন্তু আমি তাদের কথা কর্ণপাত করিনি। খেলাধুলা করায় আমার মেয়েদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। ওরা ভালো চিন্তা করে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বস্তিতে বসবাসরত মেয়েদেরকে খেলাধুলার পাশাপাশি মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া, বাবা-মার কথা শোনা এবং তাদের শরীরের যতœ নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেসঙ্গে তিনি মোবাইল আসক্তি থেকে ছেলেমেয়েদের দূরে থাকারও পরামর্শ দেন। তিনি এই খেলোয়াড়দের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন ।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবনে সংকট, সমস্যা থাকবে। যে কোনো ধরনের নির্যাতনমূলক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তা থেকে নিজেকে ওরা কিভাবে সুরক্ষিত করবে, খেলাধুলা কিভাবে ওদের সুরক্ষা দেয়, তা খেলাধুলার মাধ্যমেই এই খেলোয়াড়রা জানতে পেরেছে। । এর মধ্য দিয়েই বালক, বালিকাদের নেতৃত্বের বিকাশও হচ্ছে।