ধর্ষণের শিকার কন্যা কি কোনো বিচার পাবে না?
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 102
দেশে নারী ও শিশুদের ওপর পৈশাতিক বর্বরতা এবং যৌন সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের ১৫৬টি মানবাধিকার সংগঠন। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং আমরাই পারি জোটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই যৌথ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গত ১৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার এক অবুজ কন্যাশিশুর পিতা কান্নায় ভেঙে পড়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের কাছে এক মর্মস্পর্শী প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
সমাজে অপরাধীদের মাঝে শাস্তি না হওয়ার এক ধরণের বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের মামলাগুলোর ধীরগতি এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত নিদারুণ মানসিক ও সামাজিক যাতায়াত সহ্য করছে।
মূলত নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৫৬ সংগঠনের সম্মিলিত হুংকার শিরোনামের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা এই সামাজিক দুর্যোগ রুখতে সরকারের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ কমানো অসম্ভব।
গত চার মাসে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৫৬ সংগঠনের সম্মিলিত হুংকার এর মূল লক্ষ্য হিসেবে জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নারী ও শিশু নির্যাতনকে ‘জাতীয় জরুরি ইস্যু’ ঘোষণার দাবি জানান। একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক করা, কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ডাটাবেজ তৈরি এবং যেকোনো নির্যাতন মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিসহ ১৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় সমাজসেবীরা মনে করেন, অপরাধীরা যখন বুঝতে পারে যে অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব, তখনই সমাজে পাশবিকতার মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায়। বর্তমানে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৫৬ সংগঠনের সম্মিলিত হুংকার দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার এবং শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলোকে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।






























