দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 27
কলকাতা-ভিত্তিক ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে দ্রুত ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতিপথ তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এর মধ্যেই গত মাসে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আবারও উত্থাপন করেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে এখনো কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দেশে ফেরা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাও রয়েছে। এসব বাধা সত্ত্বেও তিনি থেমে যাননি বলে দাবি করেন।
তার ভাষায়, জীবন থাকলে তিনি আবারও দেশে ফিরবেন, তবে তা হবে মাথা উঁচু করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিয়ে। তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা যতই থাকুক, প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করছেন না।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতেও দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছিল, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর। কিন্তু তার মতে, আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। তিনি দাবি করেন, দলকে ঘিরে এখনো দেশের ভেতরে কোটি কোটি সমর্থক এবং বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সক্রিয় রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো গণভিত্তিক দলকে দীর্ঘমেয়াদে থামানো যায় না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা এখনো মাঠপর্যায়ে সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে কঠিন পরিস্থিতির কারণে বহু নেতা-কর্মী বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, দেড় লাখের মতো নেতা-কর্মী মামলা ও গ্রেফতারের মুখে পড়েছেন এবং কারাবন্দিদের ন্যূনতম অধিকারও নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় যারা বিদেশে আছেন, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তার মতে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলে তারা সবাই দেশে ফিরবেন।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং ‘ভারতপ্রীতি’ অভিযোগ নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ করে এলেও বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ নেই। তার ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা বর্তমান বিএনপি সরকার এখনো কোনো দেশবিরোধী চুক্তি সামনে আনতে পারেনি।
তিনি অতীতের কিছু কূটনৈতিক অর্জনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি, ২০১৪ সালের সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি এবং ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের সমাধান হয়েছে। পাশাপাশি ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন বর্তমান জ্বালানি সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, এসব উদ্যোগই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেছে।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে শেখ হাসিনা আবারও তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।





































