ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালক শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 111

তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালক শনাক্ত

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় তাকে বহনকারী সিএনজিচালক সুমনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় সুমনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান তিনি। সূত্রের দাবি, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন।

সুমনের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে আটকের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও খালা শাশুড়িকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। একটি সূত্রের দাবি, সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। ওই অটোরিকশাটি সুমন চালাতেন বলে জানা গেছে। গাড়িটির মালিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তাজমিন। এরপর তিনি হোটেলের পাশের একটি খাবারের দোকান এবং পশ্চিম দিকে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যান। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাঁকে।

ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে কিছুক্ষণ দোকানের সামনে অবস্থানের পর অন্য পাশে চলে যান তাজমিন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাঁকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। ওই অটোরিকশায় করেই তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্সের ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হন তাঁর একমাত্র মেয়ে। শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যান তিনি। বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাজমিন।

আবদুল আলীম বলেন, রাতে মেয়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাননি। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তাজমিন মুঠোফোনে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তাজমিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

ওসি আরও জানান, সিএনজিচালক সুমন মুঠোফোন ব্যবহার করেন না এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) নেই বলে জানা গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালক শনাক্ত

সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় তাকে বহনকারী সিএনজিচালক সুমনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় সুমনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান তিনি। সূত্রের দাবি, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন।

সুমনের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে আটকের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও খালা শাশুড়িকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। একটি সূত্রের দাবি, সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। ওই অটোরিকশাটি সুমন চালাতেন বলে জানা গেছে। গাড়িটির মালিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তাজমিন। এরপর তিনি হোটেলের পাশের একটি খাবারের দোকান এবং পশ্চিম দিকে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যান। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাঁকে।

ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে কিছুক্ষণ দোকানের সামনে অবস্থানের পর অন্য পাশে চলে যান তাজমিন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাঁকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। ওই অটোরিকশায় করেই তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্সের ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হন তাঁর একমাত্র মেয়ে। শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যান তিনি। বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাজমিন।

আবদুল আলীম বলেন, রাতে মেয়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাননি। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তাজমিন মুঠোফোনে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তাজমিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

ওসি আরও জানান, সিএনজিচালক সুমন মুঠোফোন ব্যবহার করেন না এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) নেই বলে জানা গেছে।