ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলায় আরও দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 103

বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার আদালত আরও দুজনের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য, অন্যজন বেসামরিক ব্যক্তি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আরও দুটি ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর-রাজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ (রাব্বী)-এর ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা তনুর পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তনুর পরিবার শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করলেও এতদিন মামলার নথিতে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে জানান, ভিকটিমের জব্দ করা পোশাকের ফরেনসিক বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সেগুলোর তুলনামূলক পরীক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের অনুমতিও চাওয়া হয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, ডিএনএ প্রযুক্তি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিকটিমের পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।

আদেশে আদালত আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। এখনো প্রকৃত অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত ও তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই মামলায় আরও তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অপর দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গত ৮ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারিরও নির্দেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো শেষ হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তনু হত্যা মামলায় আরও দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার আদালত আরও দুজনের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য, অন্যজন বেসামরিক ব্যক্তি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আরও দুটি ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর-রাজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ (রাব্বী)-এর ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা তনুর পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তনুর পরিবার শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করলেও এতদিন মামলার নথিতে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে জানান, ভিকটিমের জব্দ করা পোশাকের ফরেনসিক বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সেগুলোর তুলনামূলক পরীক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের অনুমতিও চাওয়া হয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, ডিএনএ প্রযুক্তি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিকটিমের পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।

আদেশে আদালত আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। এখনো প্রকৃত অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত ও তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই মামলায় আরও তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অপর দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গত ৮ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারিরও নির্দেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো শেষ হয়নি।