ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিপিডিসি’র মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী-ডিপিডিসি

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন-ডিপডিসি’র এক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্প ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ৫ মে’র মধ্যে তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। চুক্তিপত্র, ক্রয় সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ মোট সাত ধরনের নথি তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ডিপিডিসির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ পাচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
এর আগে, গত বছরের ৫ মে এই জিটুজি প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের একটি দল গঠন করেছিল দুদক। সে সময় দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ডিপিডিসিকে তিনটি প্রকল্পের দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিল, চুক্তি ও চালানপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) জার্মানি থেকে আনার কথা থাকলেও তা চীন থেকে আমদানি করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেন অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তার দায়ের বিষয়টি উঠে আসে।

যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়, তবে এখন পর্যন্ত ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এর মধ্যেই নতুন করে দুদকের চিঠি পাওয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার লক্ষে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিলো। যার মাধ্যমে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন ও সরঞ্জাম পরিবর্তন করে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হয়। ১৩২ কেভি ও অন্যান্য উচ্চক্ষমতার কেবল এবং সাবস্টেশন উন্নয়নের মাধ্যমে লোড বহনের সক্ষমতা বাড়ানো, যাতে ভবিষ্যতের বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলা করা যায়। এবং লাইন লস বা বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা ছিলো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডিপিডিসি’র মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন-ডিপডিসি’র এক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্প ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ৫ মে’র মধ্যে তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। চুক্তিপত্র, ক্রয় সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ মোট সাত ধরনের নথি তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ডিপিডিসির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ পাচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
এর আগে, গত বছরের ৫ মে এই জিটুজি প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের একটি দল গঠন করেছিল দুদক। সে সময় দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ডিপিডিসিকে তিনটি প্রকল্পের দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিল, চুক্তি ও চালানপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) জার্মানি থেকে আনার কথা থাকলেও তা চীন থেকে আমদানি করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেন অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তার দায়ের বিষয়টি উঠে আসে।

যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়, তবে এখন পর্যন্ত ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এর মধ্যেই নতুন করে দুদকের চিঠি পাওয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার লক্ষে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিলো। যার মাধ্যমে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন ও সরঞ্জাম পরিবর্তন করে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হয়। ১৩২ কেভি ও অন্যান্য উচ্চক্ষমতার কেবল এবং সাবস্টেশন উন্নয়নের মাধ্যমে লোড বহনের সক্ষমতা বাড়ানো, যাতে ভবিষ্যতের বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলা করা যায়। এবং লাইন লস বা বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা ছিলো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।