আলিয়া মাদ্রাসায়
ছাত্রদলের দখলে দুই হল, কোণঠাসা শিবির
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 141
ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আবাসিক দুই হল এখন ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি সংগঠনটির। গত মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর থেকে মাদ্রাসার ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ রয়েছে। তবে হল দুটিতে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন, যাদের বেশির ভাগই ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা আর হলে ফেরেননি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগারী (রহ.) ও মুফতি আহসান উল্লাহ হল ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। দুটি হলেরই নিরাপত্তায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
আল্লামা কাশগারী হলের মূল ফটকে তালা ঝুলছিল। ফটকের সামনে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনতলা ভবনের কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। সংঘর্ষের পর থেকে হলের মূল ফটক বন্ধ থাকলেও আগে থেকে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ভেতরে অবস্থান করছেন।
সিট নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী হলে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।
এর আগেই শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে চলে যান। পরে শিবিরের দখলে থাকা কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনায় ছাত্রদলের ১৪ জন এবং ছাত্রশিবিরের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে হলে শিক্ষার্থীরা
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিকেলে হলের বাইরের ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের মূল ফটকে তালা ছিল। সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন এবং হলের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না।
কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে, আবার কেউ পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হলে এসেছেন। তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার্থী জিহাদ বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি হলে ছিলেন না। শনিবার পরীক্ষা থাকায় অ্যাডমিট কার্ড নিতে এসেছেন।
চকবাজার থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হাসান বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আগে থেকেই হলে ছিলেন। আবার অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে আসছেন। পরীক্ষার্থীদেরও আসতে হচ্ছে। তবে হলের শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
৩১২ বৈধ সিট, থাকেন প্রায় ৪০০
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল্লামা কাশগারী হলে তিনতলা ভবনে মোট ৭৪টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষে বৈধ আসন ৩১২টি। তবে সেখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী থাকেন।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর হয়। দুই দফায় সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে চলে যান।
তবে কিছু শিক্ষার্থী হল ছাড়েননি। তাদের একজন আলী হাসান ওবামা বলেন, ‘আমি কোথাও যাইনি। হলেই থাকছি।’ তার মতো আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী হলের ভেতরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকেও হলে যাতায়াত করতে দেখা যায়। ছাত্রদলের নেতা সাদ চৌধুরীকে এ সময় হলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। হলের নিরাপত্তাকর্মী বদিউর রহমান বলেন, ছাত্রদলের কিছু লোক নিজেরাই এসে হলে প্রবেশ করছেন।
‘পরিকল্পিত হামলা’, দাবি শিবিরের
আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম বলেন, এটি শুধু সিট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ছিল না; বরং যুবদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পরিকল্পিত হামলা ছিল।
তার দাবি, হামলায় শিবিরের ১১ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, হামলার সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিয়েছিলেন, তবে তারা হলের ভেতরে যেতে পারেননি।
‘হল এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে’, ছাত্রদল
আলিয়া মাদ্রাসায় বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে আসন্ন কমিটিতে পদ পেতে সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। লোকবল কম থাকায় তখন তারা প্রতিরোধ করতে পারেননি। তার দাবি, মঙ্গলবার শিবির কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাত্রদলের ওপর হামলা করলে গণমাধ্যমে বিষয়টি দেখে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এগিয়ে আসেন। এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে চলে যান।
সাদ চৌধুরীর দাবি, ‘হল এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’ সংঘর্ষে ছাত্রদলের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান তিনি।
সংঘর্ষের পর মাদ্রাসার ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই সংগঠনের বিরোধের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আবাসিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।




























