চূড়ান্ত রায়ের আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 28
আপিল বিভাগে চলমান মামলার চূড়ান্ত রায় আসার আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিকে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির একে পরিষ্কার ‘আদালত অবমাননা’ আখ্যা দিয়ে আগামীকাল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গতকাল ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে এই সচিবালয়টি বিলুপ্ত করা হয়।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও স্বায়ত্তশাসনের চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই সরকারের একটি আকস্মিক সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতে চরম নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে। এক্সিকিউটিভ (executive) বিভাগ থেকে আদালত প্রশাসনকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার উদ্দেশ্যে জারি করা পূর্বের অধ্যাদেশ বাতিলের পর এই নতুন সংকট তৈরি হলো। মূলত চূড়ান্ত রায়ের আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি নজরে আসার পর দেশের আইনি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুনানিতে বেঞ্চের বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা জানতে চান।
রিটকারী পক্ষের প্রধান আইনজীবী জানান, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই এই ধরনের বিলুপ্তি প্রক্রিয়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। বর্তমানে চূড়ান্ত রায়ের আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করার ঘটনার পর আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেন, সরকারের এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এই কারণে আগামীকালই প্রশাসনের বিরুদ্ধে court অবমাননার মামলা করার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হলেও পরবর্তীতে নির্বাচিত নতুন সরকার তা বাতিল করে। বর্তমানে চূড়ান্ত রায়ের আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হওয়ার মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জানা যায়, ৩ মাসের মধ্যে এই সচিবালয় চালুর হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের কথা বললেও তা এখনও করেনি। পরিশেষে বলা যায়, আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি না করে রাতারাতি প্রজ্ঞাপন জারি করায় পুরো বিষয়টি এখন নতুন আইনি জটিলতার দিকে মোড় নিল।




































