ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 19

রাজস্ব ভবন। ফাইল ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সারদের ভ্যাট অব্যাহতি, সারা বছর রিটার্ন জমার সুযোগ এবং নিত্যপণ্যে কর-শুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি ও রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য এ সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনের গেজেটভুক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মসলা, খেজুর এবং শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর আমদানি শুল্কও হ্রাস করা হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে তাদের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভ্যাট অব্যাহতার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোবাইল সেবা ব্যবহারের খরচ কমাতে সহায়ক হবে।

আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ কর ছাড় পাবেন।

ব্যবসায়িক খাতে উৎসে কাটা করকে আর ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হবে না। এটি অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দিতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্পোরেট করের হারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ওষুধ শিল্প, ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের কাঁচামাল, এপিআই উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি, বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে শুল্ক ও কর ছাড়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সারদের ভ্যাট অব্যাহতি, সারা বছর রিটার্ন জমার সুযোগ এবং নিত্যপণ্যে কর-শুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি ও রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য এ সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনের গেজেটভুক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মসলা, খেজুর এবং শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর আমদানি শুল্কও হ্রাস করা হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে তাদের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভ্যাট অব্যাহতার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোবাইল সেবা ব্যবহারের খরচ কমাতে সহায়ক হবে।

আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। নির্দিষ্ট সময়ের পরিবর্তে সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ কর ছাড় পাবেন।

ব্যবসায়িক খাতে উৎসে কাটা করকে আর ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হবে না। এটি অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দিতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্পোরেট করের হারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ওষুধ শিল্প, ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের কাঁচামাল, এপিআই উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি, বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে শুল্ক ও কর ছাড়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।