ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 44
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দুই দিনের সফল সংলাপ শেষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রবিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশক পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে ওয়াশিংটন সংলাপে। গত মার্চে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর তৈরি হওয়া মানবিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ সাময়িক স্বস্তি পাবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যকার এই আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ছিল।
গত ২ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ইসরায়েলি অভিযানে দক্ষিণ লেবাননে ২ হাজার ৮১৪ জন নিহত এবং ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি হলেও বিগত দিনগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এমনকি যুদ্ধবিরতি চলার সময়েও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
এবারের সংলাপে মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে পেন্টাগন দুই দেশের জন্য একটি নতুন ‘নিরাপত্তা লাইন’ প্রস্তাব করবে। এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আগামী জুনের শুরুতে ওয়াশিংটনে পুনরায় বৈঠকে বসবে দুই পক্ষ। পরিশেষে বলা যায়, এই ধারাবাহিক সংলাপ দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।




































