ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 58

ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক থাকলেও ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি দেশটির হাজারো নবজাতকের জীবন বাঁচাতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। ট্যান্ডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি (MS/MS) নামক পারমাণবিকভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ৫৮ ধরনের বংশগত বিপাকীয় রোগ বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে উৎপাদিত রেডিওআইসোটোপ ব্যবহার করে তৈরি এই দেশীয় ডায়াগনস্টিক কিট ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম ইরানকে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব স্বনির্ভরতা এনে দিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নানা বিতর্ক থাকলেও এর মানবিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার দেশটির চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। প্রতিবছর দেশটিতে হাজারো শিশু বংশগত বিপাকীয় জটিলতা নিয়ে জন্মায়, যা সময়মতো ধরা না পড়লে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধকতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

মূলত ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইরানি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বিশেষ স্ক্রিনিং কিটের সাহায্যে জন্মের মাত্র তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শিশুদের এই জটিল পরীক্ষাগুলো করা হচ্ছে।

এই গণস্ক্রিনিং কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হলো ট্যান্ডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি (MS/MS) প্রযুক্তি, যা সরাসরি পারমাণবিক বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা সেবাকে গতিশীল করতে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ইউরেনিয়াম থেকে গবেষণা রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে মলিবডেনাম-৯৯ এবং পরবর্তীতে টেকনেশিয়াম-৯৯এম নামক জীবনরক্ষাকারী রেডিওআইসোটোপ উৎপাদিত হয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই ডায়াগনস্টিক কিট তৈরি করে ইরান বিশ্বমঞ্চে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ইরানের এই চিকিৎসা প্রযুক্তি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও সমাদৃত হচ্ছে। ২০২৫ সালে ইরান কিউবার প্রেসিডেন্টকে উপহার হিসেবে ৫০টিরও বেশি রোগ শনাক্তে সক্ষম উন্নত পারমাণবিক চিকিৎসা কিট প্রদান করে।

বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়িয়ে সেরিব্রাল ক্রিয়েটিনের মতো অতিরিক্ত রোগ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। পরিশেষে বলা যায়, যে পারমাণবিক প্রযুক্তিকে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ভাবা হয়, ইরান সেটিকে চিকিৎসা ও মানবকল্যাণের এক শক্তিশালী মাধ্যমে রূপান্তর করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক থাকলেও ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি দেশটির হাজারো নবজাতকের জীবন বাঁচাতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। ট্যান্ডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি (MS/MS) নামক পারমাণবিকভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ৫৮ ধরনের বংশগত বিপাকীয় রোগ বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে উৎপাদিত রেডিওআইসোটোপ ব্যবহার করে তৈরি এই দেশীয় ডায়াগনস্টিক কিট ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম ইরানকে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব স্বনির্ভরতা এনে দিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নানা বিতর্ক থাকলেও এর মানবিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার দেশটির চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। প্রতিবছর দেশটিতে হাজারো শিশু বংশগত বিপাকীয় জটিলতা নিয়ে জন্মায়, যা সময়মতো ধরা না পড়লে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধকতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

মূলত ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইরানি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বিশেষ স্ক্রিনিং কিটের সাহায্যে জন্মের মাত্র তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শিশুদের এই জটিল পরীক্ষাগুলো করা হচ্ছে।

এই গণস্ক্রিনিং কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হলো ট্যান্ডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি (MS/MS) প্রযুক্তি, যা সরাসরি পারমাণবিক বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা সেবাকে গতিশীল করতে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ইউরেনিয়াম থেকে গবেষণা রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে মলিবডেনাম-৯৯ এবং পরবর্তীতে টেকনেশিয়াম-৯৯এম নামক জীবনরক্ষাকারী রেডিওআইসোটোপ উৎপাদিত হয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই ডায়াগনস্টিক কিট তৈরি করে ইরান বিশ্বমঞ্চে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ইরানের এই চিকিৎসা প্রযুক্তি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও সমাদৃত হচ্ছে। ২০২৫ সালে ইরান কিউবার প্রেসিডেন্টকে উপহার হিসেবে ৫০টিরও বেশি রোগ শনাক্তে সক্ষম উন্নত পারমাণবিক চিকিৎসা কিট প্রদান করে।

বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নবজাতকের চিকিৎসা কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়িয়ে সেরিব্রাল ক্রিয়েটিনের মতো অতিরিক্ত রোগ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। পরিশেষে বলা যায়, যে পারমাণবিক প্রযুক্তিকে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ভাবা হয়, ইরান সেটিকে চিকিৎসা ও মানবকল্যাণের এক শক্তিশালী মাধ্যমে রূপান্তর করেছে।