ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন ট্র্যাফিক ৬০-৭০ শতাংশ বট-নির্ভর: উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 18

এআই / প্রতীকী ছবি

দেশের অনলাইন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ট্র্যাফিকের একটি বড় অংশ মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বট থেকে আসে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তার মতে, এই হার প্রায় ষাট থেকে সত্তর শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা ডিজিটাল পরিবেশের বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

রাজধানীর গুলশানে ‘বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দৃক, নাগরিক কোয়ালিশন এবং জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা।

আলোচনায় রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। উন্মুক্ত ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যবস্থায় এখনো অতি সাধারণ নিরাপত্তা দুর্বলতা দেখা যায়। কোথাও কোথাও প্রশাসনিক অ্যাকাউন্টে খুবই সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তার মতে শুধু অবহেলা নয় বরং গুরুতর ঝুঁকি।

আইনি কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনে সরকার এখন ফৌজদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে ক্ষতিপূরণভিত্তিক দেওয়ানি দায়বদ্ধতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানান, বিভিন্ন সংস্থা থেকে আসা অনুরোধের ভিত্তিতে অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ করা হয়। গত বছরে প্রায় সাতাশ হাজার কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ এলেও তার মধ্যে প্রায় তেষট্টি শতাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যা ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট দ্রুত সরানো গেলেও ভুয়া তথ্য ও গুজবসংক্রান্ত কনটেন্ট মোকাবিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্যের সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অনলাইন ট্র্যাফিক ৬০-৭০ শতাংশ বট-নির্ভর: উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দেশের অনলাইন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ট্র্যাফিকের একটি বড় অংশ মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বট থেকে আসে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তার মতে, এই হার প্রায় ষাট থেকে সত্তর শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা ডিজিটাল পরিবেশের বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

রাজধানীর গুলশানে ‘বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্ম শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দৃক, নাগরিক কোয়ালিশন এবং জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা।

আলোচনায় রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। উন্মুক্ত ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যবস্থায় এখনো অতি সাধারণ নিরাপত্তা দুর্বলতা দেখা যায়। কোথাও কোথাও প্রশাসনিক অ্যাকাউন্টে খুবই সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তার মতে শুধু অবহেলা নয় বরং গুরুতর ঝুঁকি।

আইনি কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনে সরকার এখন ফৌজদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে ক্ষতিপূরণভিত্তিক দেওয়ানি দায়বদ্ধতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানান, বিভিন্ন সংস্থা থেকে আসা অনুরোধের ভিত্তিতে অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ করা হয়। গত বছরে প্রায় সাতাশ হাজার কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ এলেও তার মধ্যে প্রায় তেষট্টি শতাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যা ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট দ্রুত সরানো গেলেও ভুয়া তথ্য ও গুজবসংক্রান্ত কনটেন্ট মোকাবিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্যের সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত দেন।