ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপুল বিনিয়োগেও শেখার ঘাটতি, হতাশ শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 7

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ) ‘ফ্রম এভিডেন্স টু অ্যাকশন: স্ট্রেনদেনিং লার্নিং, ইনক্লুশন অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ক্লাসরুম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিএসএইচই) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন ইউনিসেফের শিক্ষা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক গবেষণা দলের প্রধান থমাস ওয়েলস ড্রেসেন এবং একই গবেষণা দলের পরামর্শক অনিন্দিতা গুহ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকভাবে পড়তে পারে না—এমন তথ্য উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কেন তাঁরা পড়তে পারছে না? কেন আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারছি না?’ এ জন্য শুধু শিক্ষক নয়, নীতিনির্ধারক, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, শিক্ষকতার মান এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ করছে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) বাস্তবায়নে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আগের কর্মসূচিতেও প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

তবে এত বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেন, ‘এত টাকা খরচের পর আমরা এখন যে অবস্থায় আছি, তার জবাব কে দেবে?’

তিনি বলেন, আমরা সবাই সমস্যাগুলো জানি। কিন্তু কীভাবে সমস্যার সমাধান করছি, সেটাই মূল প্রশ্ন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কি এই রিপোর্ট ফাইলে রেখে দেব, নাকি কার্যকর ব্যবস্থা নেব। —এটা এখন আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন।’

প্রায় ২০ বছর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের তথ্য তুলে ধরে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বছর পরও শিক্ষাব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাইনি।

শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা থেকেই সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে চায়।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং বাস্তব জীবনের উপযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সে জন্য সরকার গবেষণাভিত্তিক তথ্য এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে চায়। গ্রাম–শহরের বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

একই সঙ্গে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের হয়ে অংশগ্রহণমূলক ও সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন ।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ধাপে ধাপে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ফরাসি, জার্মান বা আরবির মতো তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়।

তিনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়কে শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, সামাজিক পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু নীতিমালা প্রণয়নের ওপর নির্ভর করে না; এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান, শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, অভিভাবকদের আস্থা এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শেখার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। কেবল পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয়, বরং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ শিক্ষাসংস্কারের ভিত্তি হওয়া উচিত।

থমাস ওয়েলস ড্রেসেন এবং অনিন্দিতা গুহ ইউনিসেফের গবেষণা ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির মৌলিক দক্ষতাই অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে গণিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৯০ শতাংশের বেশি ‘নবিশ’ বা প্রাথমিক স্তরে ছিল। অর্থাৎ, তারা পঞ্চম শ্রেণির সক্ষমতার ওপর নেওয়া পরীক্ষার অর্ধেক প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ১৪২টি বিদ্যালয়ের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং ৮০০–এর বেশি শিক্ষক অংশ নেন। এতে বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করে ইউনিসেফ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণার অংশ হিসেবে দুই বছরব্যাপী পাইলট কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলা ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে গড়ে ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, স্কুল বন্ধ থাকা, পরিবর্তিত শিক্ষাপঞ্জি এবং নানা বিঘ্নের মধ্যেও এই অগ্রগতি অর্থবহ।

গবেষণার প্রধান বার্তাসমূহ:
লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (এলইএস- শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করার কৌশল): শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দিন
• অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা অর্জন ছাড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে।
• কোন শ্রেণিতে পড়ে তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী কতটা জানে, সে বিষয়ে অনুমান না করে তার প্রকৃত শেখার স্তরের ভিত্তিতে পাঠদান করলে শিক্ষাদানের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
• শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন শেখানোর পদ্ধতি পাঠ্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বিদ্যালয় ব্যবস্থার অংশ করতে হবেএটাকে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখা যাবে না।
পাঠ্যক্রম সংস্কার বাস্তবায়ন: সুদৃঢ় লক্ষ্য, কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতি
• শিক্ষকরা ২০২২ সালের পাঠ্যক্রম সংস্কার অনুযায়ী শেখানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
• প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ প্রদানে বিলম্ব, সীমিত শিক্ষাসামগ্রী এবং মূল্যায়নব্যবস্থার দুর্বলতা।
• পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি, আরও টেকসই পদ্ধতি এবং শ্রেণিকক্ষ-উপযোগী উপকরণ ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ছোট ছোট দক্ষতার উন্নয়ন: গুরুত্ব অনেক, কিন্তু লাভবান সীমিত সংখ্যক

• শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দক্ষতা থেকে উপকৃত হয়, কিন্তু এসব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এখনও সীমিত এবং সবার জন্য সমান নয়।
• ছোট ছোট দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সমন্বিত না করে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করলে শিক্ষকরা তা বাস্তবায়নে সমস্যার সম্মুখীন হন।
• পাঠ্যক্রম, সময়সূচি ও মূল্যায়নব্যবস্থার সঙ্গে ছোট ছোট দক্ষতা তৈরির কার্যক্রমের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
খেলাভিত্তিক শিক্ষা (গ্যামিফাইড লার্নিং): স্বল্পপ্রযুক্তির উপকরণেও উজ্জ্বল সম্ভাবনা
• কমিকভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী জ্ঞান অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে, বিশেষ করে যখন ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে।
• ডিজিটাল উপকরণ কার্যকর, কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা (ডিভাইস ও বিদ্যুৎ সুবিধা) এর ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করে।
• পরিবার ও সহপাঠীদের সম্পৃক্ততা শিক্ষার মানোন্নয়ন করে।
জেন্ডার-রেসপন্সিভ শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
• শিক্ষকরা শিক্ষায় জেন্ডার সমতাকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন, কিন্তু এর বাস্তব প্রয়োগে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
• বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী শিক্ষকের সীমিত প্রতিনিধিত্ব এ বিষয়ে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
• বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বাস্তবিক প্রয়োগ ও উদাহরণ এবং কমিউনিটির অধিক সম্পৃক্ততা অগ্রগতি অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষাদান (ইএমডিসি): ঘাটতি পূরণ সম্ভব
•শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের তাদের প্রয়োজন ও শেখার স্বক্ষমতানুযায়ী শিক্ষাদান করলে দ্রুত শেখার ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
• ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী সফলভাবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরে এসেছে।
• ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় ফেরাটা টেকসই করার জন্য শিক্ষকদের জোরালো সহায়তা এবং সুপরিকল্পিত উপায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্কিলফো: সেই সব দক্ষতা, যেগুলো ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণ করে
• মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি দক্ষতার সমন্বয় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।
• স্নাতক শেষ করা অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়েরা শিক্ষানবিশ হিসেবে বা অন্যান্যভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে।
• শ্রমবাজারের সঙ্গে আরও জোরালো সংযোগ এবং দক্ষতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাল্যবিবাহ নিরসনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক কর্মসূচি (জিপিইসিএম)
• বাল্যবিবাহের শিকার কন্যাশিশুদের মধ্যে শিক্ষানবিশ কার্যক্রম (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ) দক্ষতা তৈরি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।
• সামাজিক রীতি-নীতি, চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগের ঘাটতি অগ্রগতিকে সীমিত করে।
• দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে শ্রমবাজারের সঙ্গে আরও জোরালো সংযোগ, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
এই গবেষণার ফলাফল একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: শিক্ষা সংস্কার তখনই সফল হয় যখন পুরো ব্যবস্থা তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত থাকে।

এর অর্থ হলো- শিক্ষকরা যেন পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে তার পাশাপাশি তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা; বিদ্যালয়ভিত্তিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা; অভিভাবক ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা এবং সংস্কার কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের শিক্ষা সংক্রান্ত আকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন নেই; বরং সংস্কারগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার, যা সকল পর্যায়ের শ্রেণিকক্ষের জন্য বাস্তবসম্মত হবে; সাথে গোটা ব্যবস্থা তার সহায়ক হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- তথ্য-প্রমাণে দেখা গেছে যে, সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীরাও আবার শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারে ও সফল হতে পারে, যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের প্রয়োজন ও শেখার স্বক্ষমতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়; অর্থাৎ শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায় যেখানে সবার জন্য থাকবে সমান শিক্ষার সুযোগ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিপুল বিনিয়োগেও শেখার ঘাটতি, হতাশ শিক্ষামন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ) ‘ফ্রম এভিডেন্স টু অ্যাকশন: স্ট্রেনদেনিং লার্নিং, ইনক্লুশন অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ক্লাসরুম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিএসএইচই) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন ইউনিসেফের শিক্ষা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক গবেষণা দলের প্রধান থমাস ওয়েলস ড্রেসেন এবং একই গবেষণা দলের পরামর্শক অনিন্দিতা গুহ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকভাবে পড়তে পারে না—এমন তথ্য উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কেন তাঁরা পড়তে পারছে না? কেন আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারছি না?’ এ জন্য শুধু শিক্ষক নয়, নীতিনির্ধারক, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, শিক্ষকতার মান এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ করছে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) বাস্তবায়নে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আগের কর্মসূচিতেও প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

তবে এত বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেন, ‘এত টাকা খরচের পর আমরা এখন যে অবস্থায় আছি, তার জবাব কে দেবে?’

তিনি বলেন, আমরা সবাই সমস্যাগুলো জানি। কিন্তু কীভাবে সমস্যার সমাধান করছি, সেটাই মূল প্রশ্ন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কি এই রিপোর্ট ফাইলে রেখে দেব, নাকি কার্যকর ব্যবস্থা নেব। —এটা এখন আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন।’

প্রায় ২০ বছর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের তথ্য তুলে ধরে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বছর পরও শিক্ষাব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাইনি।

শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা থেকেই সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে চায়।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং বাস্তব জীবনের উপযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সে জন্য সরকার গবেষণাভিত্তিক তথ্য এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে চায়। গ্রাম–শহরের বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

একই সঙ্গে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের হয়ে অংশগ্রহণমূলক ও সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন ।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ধাপে ধাপে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ফরাসি, জার্মান বা আরবির মতো তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়।

তিনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়কে শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, সামাজিক পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু নীতিমালা প্রণয়নের ওপর নির্ভর করে না; এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান, শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, অভিভাবকদের আস্থা এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শেখার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। কেবল পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয়, বরং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ শিক্ষাসংস্কারের ভিত্তি হওয়া উচিত।

থমাস ওয়েলস ড্রেসেন এবং অনিন্দিতা গুহ ইউনিসেফের গবেষণা ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির মৌলিক দক্ষতাই অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে গণিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৯০ শতাংশের বেশি ‘নবিশ’ বা প্রাথমিক স্তরে ছিল। অর্থাৎ, তারা পঞ্চম শ্রেণির সক্ষমতার ওপর নেওয়া পরীক্ষার অর্ধেক প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ১৪২টি বিদ্যালয়ের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং ৮০০–এর বেশি শিক্ষক অংশ নেন। এতে বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করে ইউনিসেফ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণার অংশ হিসেবে দুই বছরব্যাপী পাইলট কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলা ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে গড়ে ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, স্কুল বন্ধ থাকা, পরিবর্তিত শিক্ষাপঞ্জি এবং নানা বিঘ্নের মধ্যেও এই অগ্রগতি অর্থবহ।

গবেষণার প্রধান বার্তাসমূহ:
লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (এলইএস- শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করার কৌশল): শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দিন
• অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা অর্জন ছাড়াই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে।
• কোন শ্রেণিতে পড়ে তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী কতটা জানে, সে বিষয়ে অনুমান না করে তার প্রকৃত শেখার স্তরের ভিত্তিতে পাঠদান করলে শিক্ষাদানের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
• শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন শেখানোর পদ্ধতি পাঠ্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বিদ্যালয় ব্যবস্থার অংশ করতে হবেএটাকে ঐচ্ছিক হিসেবে দেখা যাবে না।
পাঠ্যক্রম সংস্কার বাস্তবায়ন: সুদৃঢ় লক্ষ্য, কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতি
• শিক্ষকরা ২০২২ সালের পাঠ্যক্রম সংস্কার অনুযায়ী শেখানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
• প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ প্রদানে বিলম্ব, সীমিত শিক্ষাসামগ্রী এবং মূল্যায়নব্যবস্থার দুর্বলতা।
• পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি, আরও টেকসই পদ্ধতি এবং শ্রেণিকক্ষ-উপযোগী উপকরণ ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ছোট ছোট দক্ষতার উন্নয়ন: গুরুত্ব অনেক, কিন্তু লাভবান সীমিত সংখ্যক

• শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দক্ষতা থেকে উপকৃত হয়, কিন্তু এসব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এখনও সীমিত এবং সবার জন্য সমান নয়।
• ছোট ছোট দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সমন্বিত না করে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করলে শিক্ষকরা তা বাস্তবায়নে সমস্যার সম্মুখীন হন।
• পাঠ্যক্রম, সময়সূচি ও মূল্যায়নব্যবস্থার সঙ্গে ছোট ছোট দক্ষতা তৈরির কার্যক্রমের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
খেলাভিত্তিক শিক্ষা (গ্যামিফাইড লার্নিং): স্বল্পপ্রযুক্তির উপকরণেও উজ্জ্বল সম্ভাবনা
• কমিকভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী জ্ঞান অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে, বিশেষ করে যখন ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে।
• ডিজিটাল উপকরণ কার্যকর, কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা (ডিভাইস ও বিদ্যুৎ সুবিধা) এর ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করে।
• পরিবার ও সহপাঠীদের সম্পৃক্ততা শিক্ষার মানোন্নয়ন করে।
জেন্ডার-রেসপন্সিভ শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
• শিক্ষকরা শিক্ষায় জেন্ডার সমতাকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন, কিন্তু এর বাস্তব প্রয়োগে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
• বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী শিক্ষকের সীমিত প্রতিনিধিত্ব এ বিষয়ে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
• বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বাস্তবিক প্রয়োগ ও উদাহরণ এবং কমিউনিটির অধিক সম্পৃক্ততা অগ্রগতি অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষাদান (ইএমডিসি): ঘাটতি পূরণ সম্ভব
•শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের তাদের প্রয়োজন ও শেখার স্বক্ষমতানুযায়ী শিক্ষাদান করলে দ্রুত শেখার ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
• ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী সফলভাবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরে এসেছে।
• ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় ফেরাটা টেকসই করার জন্য শিক্ষকদের জোরালো সহায়তা এবং সুপরিকল্পিত উপায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্কিলফো: সেই সব দক্ষতা, যেগুলো ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণ করে
• মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি দক্ষতার সমন্বয় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।
• স্নাতক শেষ করা অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়েরা শিক্ষানবিশ হিসেবে বা অন্যান্যভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে।
• শ্রমবাজারের সঙ্গে আরও জোরালো সংযোগ এবং দক্ষতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাল্যবিবাহ নিরসনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক কর্মসূচি (জিপিইসিএম)
• বাল্যবিবাহের শিকার কন্যাশিশুদের মধ্যে শিক্ষানবিশ কার্যক্রম (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ) দক্ষতা তৈরি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।
• সামাজিক রীতি-নীতি, চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগের ঘাটতি অগ্রগতিকে সীমিত করে।
• দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে শ্রমবাজারের সঙ্গে আরও জোরালো সংযোগ, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
এই গবেষণার ফলাফল একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: শিক্ষা সংস্কার তখনই সফল হয় যখন পুরো ব্যবস্থা তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত থাকে।

এর অর্থ হলো- শিক্ষকরা যেন পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে তার পাশাপাশি তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা; বিদ্যালয়ভিত্তিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা; অভিভাবক ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা এবং সংস্কার কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের শিক্ষা সংক্রান্ত আকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন নেই; বরং সংস্কারগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার, যা সকল পর্যায়ের শ্রেণিকক্ষের জন্য বাস্তবসম্মত হবে; সাথে গোটা ব্যবস্থা তার সহায়ক হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- তথ্য-প্রমাণে দেখা গেছে যে, সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীরাও আবার শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারে ও সফল হতে পারে, যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের প্রয়োজন ও শেখার স্বক্ষমতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়; অর্থাৎ শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায় যেখানে সবার জন্য থাকবে সমান শিক্ষার সুযোগ।