ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়েকে ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসায় মব সৃষ্টির চেষ্টা

আশরাফুজ্জামান, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

মেয়েকে ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসায় মব সৃষ্টির চেষ্টা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পল্লী চিকিৎসক হাছান আলীর বিরুদ্ধে এক সাবেক ছাত্রীর করা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাদরাসায় হামলা ও মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্থানীয়রা ওই ছাত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীটির বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।

মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে জিবু মিয়া তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মাদরাসায় যান। তাদের সঙ্গে ওই ছাত্রীও ছিল। সেখানে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করলে স্থানীয়রা তাদের আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি ওই ছাত্রীকে কেন্দ্র করে হাছান আলীর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে অভিযোগের ধরন পরিবর্তন করে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগটি সত্য কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।

মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় আসাদুল নামের এক চিকিৎসক ও ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া যোগসাজশ করে হাছান আলীর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়ার গুজব ছড়ান। পরে বিষয়টি ব্যবহার করে হাছান আলীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন আগে সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হাছান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে তারা মাদরাসায় এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। পরে তাদের আটকে রেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ এসে থানায় নিয়ে যায়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার বাবার মাধ্যমে হাছান আলীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে যা প্রমাণিত হবে, সেটিই তারা মেনে নেবেন বলে জানান নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, কয়েকদিন আগে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হলেও শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাছান আলী বলেন, ‘মেয়েটিকে সন্তানের মতো দেখতাম। তার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে কম নেওয়া হতো।’ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দিয়েছেন।

অন্যদিকে ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের বিষয়ে বিচার চাই। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ থাকায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মেয়েকে ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসায় মব সৃষ্টির চেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পল্লী চিকিৎসক হাছান আলীর বিরুদ্ধে এক সাবেক ছাত্রীর করা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাদরাসায় হামলা ও মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্থানীয়রা ওই ছাত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীটির বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।

মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে জিবু মিয়া তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মাদরাসায় যান। তাদের সঙ্গে ওই ছাত্রীও ছিল। সেখানে তারা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করলে স্থানীয়রা তাদের আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি ওই ছাত্রীকে কেন্দ্র করে হাছান আলীর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে অভিযোগের ধরন পরিবর্তন করে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগটি সত্য কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।

মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় আসাদুল নামের এক চিকিৎসক ও ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া যোগসাজশ করে হাছান আলীর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়ার গুজব ছড়ান। পরে বিষয়টি ব্যবহার করে হাছান আলীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন আগে সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হাছান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে তারা মাদরাসায় এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। পরে তাদের আটকে রেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ এসে থানায় নিয়ে যায়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার বাবার মাধ্যমে হাছান আলীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে যা প্রমাণিত হবে, সেটিই তারা মেনে নেবেন বলে জানান নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, কয়েকদিন আগে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হলেও শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাছান আলী বলেন, ‘মেয়েটিকে সন্তানের মতো দেখতাম। তার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে কম নেওয়া হতো।’ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দিয়েছেন।

অন্যদিকে ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের বিষয়ে বিচার চাই। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ থাকায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।