ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাড়পত্র নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নীর প্রশ্ন

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 88

ছাড়পত্র নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নীর প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুরে আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত একটি মশার কয়েল কারখানাকে পুনরায় পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী। তাঁর দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও আপিলের মাধ্যমে কারখানাটিকে আবারও ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কবি ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।

শাহনাজ মুন্নী বলেন, তিন দশক ধরে সাংবাদিক হিসেবে অন্যদের সংবাদ সম্মেলন কভার করলেও এবার পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে নিজেকেই সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়, যেখানে মসজিদ, মন্দির ও একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে, সেখানে ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ নামে একটি মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, কারখানাটি চালু হলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কারণে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শাখা মিলিয়ে মোট নয়বার তদন্ত পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেখানে পরিবেশ আইনের আওতায় মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের অনুপযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়। এসব তদন্তের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে।

তবে তাঁর অভিযোগ, পরে আপিলের মাধ্যমে কারখানাটি ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তী তদন্তে সেই অনুমোদনও বাতিল করা হয়। এখন আগামী ৬ আগস্ট নির্ধারিত আপিল শুনানিতে আবারও ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শাহনাজ মুন্নী প্রশ্ন তোলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়টি তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের শুনানিতে পরিবর্তন করা সম্ভব? তাঁর অভিযোগ, আপিল ব্যবস্থার অপব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল পরিবেশগত ছাড়পত্র আদায়ের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, একই এলাকায় আগে ‘ইমাম পোলট্রি ফার্ম’ পরিবেশ আইন অনুযায়ী বন্ধ করা হয়েছিল এবং বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গিয়েছিল। সে অবস্থায় আরও দূষণকারী একটি কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ আদালতের সিদ্ধান্তের চেতনাবিরোধী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত কারখানাটিকে নতুন করে পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতের মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর ছাড়পত্র আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিলের দাবি জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ছাড়পত্র নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নীর প্রশ্ন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুরে আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত একটি মশার কয়েল কারখানাকে পুনরায় পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী। তাঁর দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও আপিলের মাধ্যমে কারখানাটিকে আবারও ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কবি ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।

শাহনাজ মুন্নী বলেন, তিন দশক ধরে সাংবাদিক হিসেবে অন্যদের সংবাদ সম্মেলন কভার করলেও এবার পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে নিজেকেই সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়, যেখানে মসজিদ, মন্দির ও একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে, সেখানে ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ নামে একটি মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, কারখানাটি চালু হলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কারণে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শাখা মিলিয়ে মোট নয়বার তদন্ত পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেখানে পরিবেশ আইনের আওতায় মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের অনুপযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়। এসব তদন্তের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে।

তবে তাঁর অভিযোগ, পরে আপিলের মাধ্যমে কারখানাটি ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তী তদন্তে সেই অনুমোদনও বাতিল করা হয়। এখন আগামী ৬ আগস্ট নির্ধারিত আপিল শুনানিতে আবারও ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শাহনাজ মুন্নী প্রশ্ন তোলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়টি তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের শুনানিতে পরিবর্তন করা সম্ভব? তাঁর অভিযোগ, আপিল ব্যবস্থার অপব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল পরিবেশগত ছাড়পত্র আদায়ের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, একই এলাকায় আগে ‘ইমাম পোলট্রি ফার্ম’ পরিবেশ আইন অনুযায়ী বন্ধ করা হয়েছিল এবং বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গিয়েছিল। সে অবস্থায় আরও দূষণকারী একটি কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ আদালতের সিদ্ধান্তের চেতনাবিরোধী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত কারখানাটিকে নতুন করে পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতের মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর ছাড়পত্র আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিলের দাবি জানান।