ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীঘিনালায় ব্রিজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকিতে স্কুলযাত্রা

প্রমোদ কুমার মুৎসুদ্দী, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 58

প্রতিদিন এভাবেই বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়ে স্কুল-যেতে হয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

একটু এদিক-ওদিক হলেই নিচে খাল। তবুও থেমে নেই স্কুলযাত্রা। কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, পায়ে সতর্ক পদক্ষেপ- প্রতিদিন এভাবেই বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পনছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীকে।

বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান না হওয়ায় অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই সাঁকো ব্যবহার করছেন।

বর্ষা এলেই দুর্ভোগ যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। খালের পানি বাড়লে সাঁকোটি আরও নড়বড়ে ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। তখন প্রতিটি পারাপারই হয়ে ওঠে ভয়ের। স্থানীয়দের ভাষায়, সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার একমাত্র পথ এই সাঁকো। বৃষ্টি হলে ভয় আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় পিছলে পড়ার আশঙ্কায় একে অপরকে ধরে পার হতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মুনির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কোনো দুর্ঘটনার পরই কি নড়েচড়ে বসবে কর্তৃপক্ষ? নাকি তার আগেই নির্মিত হবে বহু প্রতীক্ষিত সেতু, যা নিরাপদ করবে শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের স্কুলযাত্রা?

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দীঘিনালায় ব্রিজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকিতে স্কুলযাত্রা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

একটু এদিক-ওদিক হলেই নিচে খাল। তবুও থেমে নেই স্কুলযাত্রা। কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, পায়ে সতর্ক পদক্ষেপ- প্রতিদিন এভাবেই বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পনছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীকে।

বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান না হওয়ায় অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই সাঁকো ব্যবহার করছেন।

বর্ষা এলেই দুর্ভোগ যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। খালের পানি বাড়লে সাঁকোটি আরও নড়বড়ে ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। তখন প্রতিটি পারাপারই হয়ে ওঠে ভয়ের। স্থানীয়দের ভাষায়, সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার একমাত্র পথ এই সাঁকো। বৃষ্টি হলে ভয় আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় পিছলে পড়ার আশঙ্কায় একে অপরকে ধরে পার হতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মুনির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কোনো দুর্ঘটনার পরই কি নড়েচড়ে বসবে কর্তৃপক্ষ? নাকি তার আগেই নির্মিত হবে বহু প্রতীক্ষিত সেতু, যা নিরাপদ করবে শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের স্কুলযাত্রা?