ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / 11
দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় জলসীমায় বাণিজ্যিকসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচলের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শাখা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোতে যেকোনো জাহাজের প্রবেশ বা সেখান থেকে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী আর কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। তবে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি কমছে না। সেন্টকম জানিয়েছে, তেহরানের সাথে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতিটি শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় নিয়মিত টহল জারি রাখবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে একটি আকস্মিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার প্রধান শর্তগুলোর অংশ হিসেবেই চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান, লেবানন সংকটের সুরাহা এবং হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করাসহ এই নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এলো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় ও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এই সাময়িক চুক্তিকে স্থায়ী রূপ দিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ আরও একটি দীর্ঘমেয়াদি সংলাপে বসবে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।


































