মার্কিন গ্যাস স্টেশনে ইরানের সাইবার হামলা কি সত্য?
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 50
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় (এটিজি) সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা জড়িত থাকতে পারে।
হ্যাকাররা পাসওয়ার্ডবিহীন ও ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা সিস্টেমে প্রবেশ করে জ্বালানির প্রদর্শিত তথ্য পরিবর্তন করলেও কোনো শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরানের এই সাইবার তৎপরতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে এক অভিনব ও ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। দেশটির একাধিক গ্যাস স্টেশনের ‘অটোমেটিক ট্যাংক গেজ’ (এটিজি) সিস্টেমে হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত মার্কিন গ্যাস স্টেশনে সাইবার হামলা চালানোর পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
অতীতেও ইরান একই ধরনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ফরেনসিক প্রমাণ না থাকায় এখনো নিশ্চিতভাবে কাউকে দায়ী করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হ্যাকাররা এই সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেলে গ্যাস লিকের মতো বিপজ্জনক ঘটনা গোপন রাখতে পারে, যা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম। বর্তমানে মার্কিন গ্যাস স্টেশনে সাইবার হামলা হওয়ার এই ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সাম্প্রতিক জরিপে ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধ তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার অধিদপ্তরের প্রধান ইয়োসি কারাদি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানি হ্যাকারদের গতি ও পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে মার্কিন গ্যাস স্টেশনে সাইবার হামলা এর মতো ঘটনার পাশাপাশি তারা মনস্তাত্ত্বিক ও তথ্যযুদ্ধও সমানতালে চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় ইরান আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, সরাসরি সামরিক সক্ষমতার বিকল্প হিসেবে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকি মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।




































