শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী!
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / 23
বিজেপির ‘জায়ান্ট-কিলার’ হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এতে করে তিনি তার রাজনৈতিক গুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়ার পর সরকার গঠন নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে।
জানা গেছে, ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে দলীয় সদর দফতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিকল্প ভেন্যু খোঁজা হচ্ছে।
এই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হবে বলে সূত্রের দাবি। হাত তুলে ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য তার নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করবেন।
এরপর শুভেন্দু অধিকারী, সমীক ভট্টাচার্য এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।
সূত্র আরও জানায়, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ৯ মে, শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এটি রবীন্দ্র জয়ন্তীর সঙ্গে মিল রেখে আয়োজন করা হবে। নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে এই অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিজেপি ও তাদের জোট শরিক দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন বাঙালি, যিনি বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছেন, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী এবং বাংলা ভাষাভাষী। সেই শর্তে শুভেন্দু অধিকারী উপযুক্ত বলে ধরা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীকে রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে ধরা হয়। তিনি গ্রামীণ রাজনীতিতে শক্তিশালী প্রভাব রাখেন এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
২০২১ সালে তিনি নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও মমতার ভবানীপুর আসনেও বড় ব্যবধানে জয় পান বলে সূত্র জানায়।
২০২০ সালে দলীয় মতবিরোধের কারণে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি মমতা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও সংখ্যালঘু রাজনীতি নিয়ে সরব ছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালে তিনি বিধায়ক, সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে ভূমিকা রেখে তিনি রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আসেন।
তথ্য সূত্র: এনডিটিভি

































