শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত ও মর্মাহত ইউনিসেফ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / 27
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া একের পর এক নির্মম ও পৈশাতিক বর্বরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF)। সংস্থাটি এই ধরনের পৈশাচিক নৃশংসতা দেখে নিজেদের গভীরভাবে ‘মর্মাহত ও স্তম্ভিত’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সাথে কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষায় সমাজে বিদ্যমান অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বা বিচারহীনতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।
দেশজুড়ে অবুজ ও নিষ্পাপ শিশুদের ওপর চলমান পাশবিক নির্যাতন এবং সহিংসতার তীব্রতা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই নেতিবাচক পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষাকে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মূলত শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত ও মর্মাহত ইউনিসেফ শিরোনামের এই বৈশ্বিক বিবৃতিটি প্রমাণ করে যে, দেশের সামগ্রিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা নাজুক হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স দেশের এই বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন।
শুক্রবার ইউনিসেফের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে চলতি বছরে নারী ও শিশুদের ওপর জঘন্য যৌন সহিংসতার খবর আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত ও মর্মাহত ইউনিসেফ হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হলে বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে অবিলম্বে সরকারের চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইউনিসেফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, শিশুদের ওপর হওয়া যেকোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে যদি সাধারণ মানুষ সমাজ চত্বরে মুখ না খোলে, তবে এই নীরবতা অপরাধকে আরও বেশি উসকে দেয়। বর্তমানে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত ও মর্মাহত ইউনিসেফ এর পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী শিশু বা নারীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও এটিকে এক ধরণের ‘নতুন নির্যাতন’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, সাইবার দুনিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ছড়িয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের মানসিক কষ্ট না বাড়িয়ে বরং অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তির মুখোমুখি করতে আইনি সংস্থাকে সহায়তা করাই এখন নাগরিক দায়িত্ব।

































