ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, হতে পারে সাময়িক বিভ্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 10

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা সঞ্চালন-বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গ্রামাঞ্চলে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে সরবরাহ বন্ধ থাকাই প্রকৃত লোডশেডিং। বর্তমানে দেশে সেই ধরনের পরিস্থিতি নেই; যেসব সমস্যা হচ্ছে সেগুলো মূলত সাময়িক বিভ্রাট।

মন্ত্রী জানান, দেশের গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান, যা ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট সক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

দীর্ঘমেয়াদি দাবদাহের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত। তবে চরম পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় সীমিত লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকা রূপসার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ভোলা থেকে গ্যাস এনে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুতায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সমাধান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, হতে পারে সাময়িক বিভ্রাট

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা সঞ্চালন-বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গ্রামাঞ্চলে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে সরবরাহ বন্ধ থাকাই প্রকৃত লোডশেডিং। বর্তমানে দেশে সেই ধরনের পরিস্থিতি নেই; যেসব সমস্যা হচ্ছে সেগুলো মূলত সাময়িক বিভ্রাট।

মন্ত্রী জানান, দেশের গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান, যা ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট সক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

দীর্ঘমেয়াদি দাবদাহের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত। তবে চরম পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় সীমিত লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকা রূপসার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ভোলা থেকে গ্যাস এনে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুতায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সমাধান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।