তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আসছে বিদেশি অপারেটর
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 39
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিদেশি কোম্পানিকেও এই সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের একক আধিপত্যের পরিবর্তে একাধিক অপারেটর যুক্ত হলে সেবার মান উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে বিমানের সক্ষমতাও বজায় থাকবে।
বর্তমানে দেশের সব বিমানবন্দরে এককভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্রায় ৪০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসকে এই সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বছরে আনুমানিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় করে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইনস বিমানের সেবার মান, বিলম্ব এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। যাত্রীদের পক্ষ থেকেও দেরি, অদক্ষতা এবং কখনো কখনো মালামাল ক্ষতি বা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৩ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইনস তৃতীয় টার্মিনালে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান দেখতে চায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো আরও আস্থা পাবে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য প্রতিযোগিতার মুখে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০০ নতুন গ্রাউন্ড সাপোর্ট যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ৭০ ধরনের নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র এ বি এম রওশান কবির জানিয়েছেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বিদেশি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জাতীয় রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, বিমান ইতোমধ্যে দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানে সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এদিকে তৃতীয় টার্মিনালের সার্বিক পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং জাপানের একটি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় বিমানের পাশাপাশি একটি বেসরকারি বা বিদেশি অংশীদারকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত কর্মক্ষমতা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে বিদেশি অপারেটর সরাসরি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে ভবিষ্যতে তৃতীয় টার্মিনালে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি দেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালের আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে ২৬টি আধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং বিশেষ ভিআইপি সুবিধা রাখা হয়েছে।
টার্মিনালটি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে বছরে প্রায় ১২ লাখ টনে উন্নীত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা চালু হলে দেশের বিমান পরিবহন খাত আরও গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর কাছে বাংলাদেশের বিমানবন্দরের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।



































