চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ি আমদানিতে ধস, খালাস কমেছে ৭৫ শতাংশ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / 25
দেশের অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ি আমদানিতে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে গাড়ি খালাসের পরিমাণ প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূলত ডলারের উচ্চমূল্য এবং এলসি খোলার জটিলতায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়াও এই মন্দার অন্যতম কারণ।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানিতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গাড়ি খালাসের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে। আসলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এই নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই ভয়াবহ চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
গত বছরের মার্চ মাসে বন্দর থেকে রেকর্ড এক হাজার ৯৫৯টি গাড়ি খালাস হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে সেই সংখ্যাটি মাত্র ৪৯৭টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গাড়ি খালাস কমেছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। সাধারণত বাজেটের আগে গাড়ি খালাসের তোড়জোড় থাকলেও এবার বন্দরে সেই চিত্র অনুপস্থিত। আমদানির এই নিম্নমুখী প্রবণতা কাস্টমস কর্মকর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কড়াকড়ি এই সংকটের প্রধান কারণ। এছাড়া গাড়ির ওপর ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। ফলে আমদানিকৃত গাড়ির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পরবর্তীতে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেক শোরুমে অবিক্রীত গাড়ির স্তূপ জমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তাও এই মন্দাকে ত্বরান্বিত করেছে।
গাড়ি এখন কেবল বিলাসিতা নয় বরং যোগাযোগের একটি জরুরি মাধ্যম। তাই ব্যবসায়ীরা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছেন। বারভিডার নেতারা মনে করেন যে, এলসি সুবিধা সহজ না করলে এই স্থবিরতা কাটবে না। অন্যথায় চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ের একটি বড় খাত দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কবলে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
































