ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এখনই: তারেক রহমান
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / 13
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের গণতন্ত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে দক্ষতা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। শিক্ষা, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলেই দেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে হবে।
রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে। তাই শহীদ ও গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগীদের সম্মান জানাতে জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজারের বেশি কলেজে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়। দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, আর্থিক সচেতনতা, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি ও থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষে অনেক শিক্ষার্থী বেকার থাকেন, যার অন্যতম কারণ ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
এছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে সিড ফান্ড ও উদ্ভাবন অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তরুণরা নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।





































