ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যমে ‘ভাইব্রেন্ট পরিবেশ’ ফেরানোর প্রত্যাশা তথ্য উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 7

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আয়োজিত আলোচনায় তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গণমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনায় আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে আবারও প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী মিডিয়া পরিবেশ গড়ে উঠতে হবে।

গণমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারের কাজের যৌক্তিক সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ, আর সেই জায়গা থেকে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তার ভাষায়, এমন একটি পরিবেশ তিনি দেখতে চান যেখানে সাংবাদিকতা কেবল প্রতিবেদন নয়, বরং প্রশ্ন তোলার শক্তিও ধরে রাখে।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক সংঘাতমুখী হওয়া উচিত নয়; বরং পরস্পরের প্রতি সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তবে আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া কনটেন্টের বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নামে ছড়ানো একটি বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে এমন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে যা তিনি আদৌ দেননি। বিষয়টি ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালাগালিও এসেছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে মূলধারার গণমাধ্যমেও ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, যা তার মতে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

একটি সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ করে তিনি ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ ও ‘ফেক নিউজ’ তৈরির অভিযোগ তোলেন। এমন প্রবণতার বিরুদ্ধে আইনি ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি, যদিও একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান রাখেন।

গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, সংশ্লিষ্ট কমিশনের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর আটক সাংবাদিকদের বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে উল্লেখ করেন।

নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানান, যেখানে অনলাইন হয়রানি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ব্যয়বহুল হলেও আয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম, ফলে সময়োপযোগী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণমাধ্যমে ‘ভাইব্রেন্ট পরিবেশ’ ফেরানোর প্রত্যাশা তথ্য উপদেষ্টার

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আয়োজিত আলোচনায় তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গণমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনায় আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে আবারও প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী মিডিয়া পরিবেশ গড়ে উঠতে হবে।

গণমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারের কাজের যৌক্তিক সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ, আর সেই জায়গা থেকে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তার ভাষায়, এমন একটি পরিবেশ তিনি দেখতে চান যেখানে সাংবাদিকতা কেবল প্রতিবেদন নয়, বরং প্রশ্ন তোলার শক্তিও ধরে রাখে।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক সংঘাতমুখী হওয়া উচিত নয়; বরং পরস্পরের প্রতি সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তবে আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া কনটেন্টের বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নামে ছড়ানো একটি বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে এমন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে যা তিনি আদৌ দেননি। বিষয়টি ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালাগালিও এসেছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে মূলধারার গণমাধ্যমেও ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, যা তার মতে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

একটি সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ করে তিনি ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ ও ‘ফেক নিউজ’ তৈরির অভিযোগ তোলেন। এমন প্রবণতার বিরুদ্ধে আইনি ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি, যদিও একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান রাখেন।

গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, সংশ্লিষ্ট কমিশনের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর আটক সাংবাদিকদের বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে উল্লেখ করেন।

নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানান, যেখানে অনলাইন হয়রানি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ব্যয়বহুল হলেও আয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম, ফলে সময়োপযোগী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।