ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি আগে মানুষ’ ভাইরাল তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 131

‘আমি আগে মানুষ’ ভাইরাল তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে

“তুমি হিন্দু?” “আমি আগে মানুষ।”

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এক ব্যক্তির সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তরুণ মো. আজহারুল। তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে ধর্মীয় পরিচয়ের আগে মানবিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ায় অনেকেই আজহারুলের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িকতা, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা উঠে এসেছে। অনেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত বাণী—“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”—এর সঙ্গে তার বক্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাখ্যা দেন আজহারুল।

তিনি লেখেন, “এখানে যদি মসজিদের পরিবর্তে নতুন করে কোনো মন্দির নির্মাণ করা হতো, তাহলেও আমি একই কথা বলতাম। সেখানে যেমন মন্দিরের অধিকার থাকবে, তেমনি মসজিদ ও গির্জা নির্মাণেরও সমান অধিকার থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে মসজিদ নির্মাণেও আমি নিজেই অর্থায়ন করতাম।”

আজহারুলের ভাষ্য, তার অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়; বরং ন্যায়বিচার, সমঅধিকার এবং আইনের সমান প্রয়োগের পক্ষে।

তিনি আরও লেখেন, “আমার কাছে প্রশ্নটি কোনো একটি ধর্মের নয়, বরং ন্যায্যতা, সমঅধিকার ও আইনের সমান প্রয়োগের। এই নীতির ক্ষেত্রে আমি কোনো ছাড় দিতাম না।”

ফেসবুক পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মন্তব্যগুলো দেখে তার মনে হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি খুব অল্পসংখ্যক মুসলিম তাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, অনেকেই “আমি আগে মানুষ” মন্তব্যটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

পোস্টের শেষ অংশে আজহারুল লেখেন, “আমি বিশ্বাস করি, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু ধর্মকে যদি পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি বানানো হয়, তাহলে আমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাই। তাই আমার ধর্ম আমার অন্তরে। এটি প্রচার করার প্রয়োজন আমি অনুভব করি না। কারণ সৃষ্টিকর্তা জানেন, আমরা কী করছি, কী বিশ্বাস করছি এবং কাকে উপলব্ধি করছি।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘আমি আগে মানুষ’ ভাইরাল তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

“তুমি হিন্দু?” “আমি আগে মানুষ।”

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এক ব্যক্তির সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তরুণ মো. আজহারুল। তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে ধর্মীয় পরিচয়ের আগে মানবিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ায় অনেকেই আজহারুলের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িকতা, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা উঠে এসেছে। অনেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত বাণী—“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”—এর সঙ্গে তার বক্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাখ্যা দেন আজহারুল।

তিনি লেখেন, “এখানে যদি মসজিদের পরিবর্তে নতুন করে কোনো মন্দির নির্মাণ করা হতো, তাহলেও আমি একই কথা বলতাম। সেখানে যেমন মন্দিরের অধিকার থাকবে, তেমনি মসজিদ ও গির্জা নির্মাণেরও সমান অধিকার থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে মসজিদ নির্মাণেও আমি নিজেই অর্থায়ন করতাম।”

আজহারুলের ভাষ্য, তার অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়; বরং ন্যায়বিচার, সমঅধিকার এবং আইনের সমান প্রয়োগের পক্ষে।

তিনি আরও লেখেন, “আমার কাছে প্রশ্নটি কোনো একটি ধর্মের নয়, বরং ন্যায্যতা, সমঅধিকার ও আইনের সমান প্রয়োগের। এই নীতির ক্ষেত্রে আমি কোনো ছাড় দিতাম না।”

ফেসবুক পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মন্তব্যগুলো দেখে তার মনে হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি খুব অল্পসংখ্যক মুসলিম তাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, অনেকেই “আমি আগে মানুষ” মন্তব্যটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

পোস্টের শেষ অংশে আজহারুল লেখেন, “আমি বিশ্বাস করি, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু ধর্মকে যদি পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি বানানো হয়, তাহলে আমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাই। তাই আমার ধর্ম আমার অন্তরে। এটি প্রচার করার প্রয়োজন আমি অনুভব করি না। কারণ সৃষ্টিকর্তা জানেন, আমরা কী করছি, কী বিশ্বাস করছি এবং কাকে উপলব্ধি করছি।”