ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানের আগে লেবুর দামে ঝাঁজ, হালি উঠেছে ১০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 206

লেবুর দামে ঝাঁজ, হালি উঠেছে ১০০ টাকা

রমজান শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েকদিন। এর আগেই রাজধানীর বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্য বৃদ্ধিতে ছোট লেবুর হালিও এখন ৬০–৭০ টাকার নিচে মিলছে না, আর মাঝারি ও বড় লেবুর দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকা বা তার বেশি।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও অলিগলির ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৫০–৬০ টাকা। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হলেও দরদাম করে ক্রেতারা প্রায় ১০০ টাকায় কিনছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর শান্তিনগর বাজারে প্রতি পিস লেবুর দাম ৩০ টাকা হাঁকতে দেখা গেছে। দর-কষাকষির পর একজন গ্রাহক দুটি লেবু কিনেছেন ৫০ টাকায়। বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগেও যে দামে এক ডজন লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই দামে এক হালিও পাওয়া কঠিন। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারে পাঁচটি সবজির দোকানের মধ্যে চারটিতেই লেবু বিক্রি হয়েছে প্রতি হালি ১০০ টাকায়। একটি দোকানে তুলনামূলক পাকা লেবু ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যদিকে রামপুরা হাজিপাড়া বউবাজার এলাকায় একটি ভ্যানে ছোট আকারের লেবু ৬০ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও আকারে ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত এর চেয়ে কম দামে কোথাও লেবু বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

বিক্রেতারা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ার আগাম প্রভাব বাজারে পড়েছে। ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় লেবুর শরবত হওয়ায় ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে এ পণ্যের চাহিদা বাড়ে। ফলে রোজা শুরুর আগেই দাম বৃদ্ধিতে নিম্নআয়ের ক্রেতারা চাপে পড়েছেন।

একজন ক্রেতা ফারিয়া খান জানান, ৮০ টাকা পর্যন্ত বলেও এক হালি লেবু কিনতে পারেননি। রোজার আগে সংরক্ষণ করে রাখার ইচ্ছা থাকলেও উচ্চ দামের কারণে ফিরে যেতে হয়েছে। তার আশঙ্কা, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে বাজারে সরবরাহ সংকটের চিত্র স্পষ্ট নয়। বেশিরভাগ দোকানেই বিভিন্ন ধরনের লেবু পাওয়া যাচ্ছে। ছোট পাতি লেবু ৬০ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও বড় লম্বা লেবুর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অধিকাংশ গ্রাহককে দাম নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করতে দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের দাবি, অনেক চাষি রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এখনই বাজারে লেবু ছাড়ছেন না। একই কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও লেবু মজুত করে রাখতে পারেন, কারণ এ পণ্য কিছুদিন সহজেই সংরক্ষণ করা যায়। বিক্রেতাদের ধারণা, রমজান শুরু হলে লেবুর দাম আরও বাড়তে পারে এবং মৌসুমের শুরুতেই নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রমজানের আগে লেবুর দামে ঝাঁজ, হালি উঠেছে ১০০ টাকা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েকদিন। এর আগেই রাজধানীর বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্য বৃদ্ধিতে ছোট লেবুর হালিও এখন ৬০–৭০ টাকার নিচে মিলছে না, আর মাঝারি ও বড় লেবুর দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকা বা তার বেশি।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও অলিগলির ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৫০–৬০ টাকা। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হলেও দরদাম করে ক্রেতারা প্রায় ১০০ টাকায় কিনছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর শান্তিনগর বাজারে প্রতি পিস লেবুর দাম ৩০ টাকা হাঁকতে দেখা গেছে। দর-কষাকষির পর একজন গ্রাহক দুটি লেবু কিনেছেন ৫০ টাকায়। বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগেও যে দামে এক ডজন লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই দামে এক হালিও পাওয়া কঠিন। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারে পাঁচটি সবজির দোকানের মধ্যে চারটিতেই লেবু বিক্রি হয়েছে প্রতি হালি ১০০ টাকায়। একটি দোকানে তুলনামূলক পাকা লেবু ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যদিকে রামপুরা হাজিপাড়া বউবাজার এলাকায় একটি ভ্যানে ছোট আকারের লেবু ৬০ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও আকারে ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত এর চেয়ে কম দামে কোথাও লেবু বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

বিক্রেতারা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ার আগাম প্রভাব বাজারে পড়েছে। ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় লেবুর শরবত হওয়ায় ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে এ পণ্যের চাহিদা বাড়ে। ফলে রোজা শুরুর আগেই দাম বৃদ্ধিতে নিম্নআয়ের ক্রেতারা চাপে পড়েছেন।

একজন ক্রেতা ফারিয়া খান জানান, ৮০ টাকা পর্যন্ত বলেও এক হালি লেবু কিনতে পারেননি। রোজার আগে সংরক্ষণ করে রাখার ইচ্ছা থাকলেও উচ্চ দামের কারণে ফিরে যেতে হয়েছে। তার আশঙ্কা, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে বাজারে সরবরাহ সংকটের চিত্র স্পষ্ট নয়। বেশিরভাগ দোকানেই বিভিন্ন ধরনের লেবু পাওয়া যাচ্ছে। ছোট পাতি লেবু ৬০ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও বড় লম্বা লেবুর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অধিকাংশ গ্রাহককে দাম নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করতে দেখা গেছে।

বিক্রেতাদের দাবি, অনেক চাষি রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এখনই বাজারে লেবু ছাড়ছেন না। একই কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও লেবু মজুত করে রাখতে পারেন, কারণ এ পণ্য কিছুদিন সহজেই সংরক্ষণ করা যায়। বিক্রেতাদের ধারণা, রমজান শুরু হলে লেবুর দাম আরও বাড়তে পারে এবং মৌসুমের শুরুতেই নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।