ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 18

ফাইল ফটো

ভারতের সঙ্গে সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ বন্ধ করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের অভিযোগ, নয়াদিল্লি পানি সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়, তিব্বত মালভূমি এবং পির পাঞ্জাল পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন ছয়টি নদীর পানি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এসব নদীর উৎস ভারতের লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায়।

দেশভাগের পর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি দুই দেশের মধ্যে নদীর পানি বণ্টনের ভিত্তি তৈরি করে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বিশ্বের অন্যতম সফল আন্তঃসীমান্ত পানি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ন্যায্য পানির প্রবাহ বন্ধের চেষ্টা করা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু পানির নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী সি. আর. পাতিল বলেছিলেন, কাশ্মীরে হামলার পর সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানে পানি প্রবাহ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এর জবাবেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে।

পাকিস্তানের মন্ত্রী বলেন, দেশটির ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের জন্য সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর নির্ভরশীল। পানি সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদী- সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। অন্যদিকে রাভি, বিয়াস ও শতদ্রুর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের। চুক্তির আওতায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির কৃষি, নগরজীবন ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে মঙ্গলবার সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সম্পদ ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা চুক্তির আইনি ভিত্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য বিরোধ নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পানি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ বন্ধ করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের অভিযোগ, নয়াদিল্লি পানি সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়, তিব্বত মালভূমি এবং পির পাঞ্জাল পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন ছয়টি নদীর পানি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এসব নদীর উৎস ভারতের লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায়।

দেশভাগের পর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি দুই দেশের মধ্যে নদীর পানি বণ্টনের ভিত্তি তৈরি করে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বিশ্বের অন্যতম সফল আন্তঃসীমান্ত পানি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ন্যায্য পানির প্রবাহ বন্ধের চেষ্টা করা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু পানির নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী সি. আর. পাতিল বলেছিলেন, কাশ্মীরে হামলার পর সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানে পানি প্রবাহ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এর জবাবেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে।

পাকিস্তানের মন্ত্রী বলেন, দেশটির ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের জন্য সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর নির্ভরশীল। পানি সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদী- সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। অন্যদিকে রাভি, বিয়াস ও শতদ্রুর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের। চুক্তির আওতায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির কৃষি, নগরজীবন ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে মঙ্গলবার সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সম্পদ ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা চুক্তির আইনি ভিত্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য বিরোধ নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করবেন।