ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 51

নৌযান

আসন্ন ঈদুল আজহায় নৌপথের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীপথে চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে ট্রলার ও নৌকা থেকে সরাসরি যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ১৮ মার্চের মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাকা সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব নৌঘাটে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নৌভ্রমণ নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই নির্দেশনাগুলো দেন।

মূলত নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা জারি করার মূল কারণ হলো টার্মিনাল পন্টুন ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে লঞ্চে যাত্রী ওঠানো বন্ধ করা। সদরঘাটে বার্থিং করা লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানো-নামানো এখন থেকে সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

গত ১৮ মার্চ সদরঘাটে অবৈধভাবে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানোর সময় দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সদরঘাট এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে।

কোনো লঞ্চ নিয়ম অমান্য করলে বা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ছাদে লোক তুললে তাৎক্ষণিকভাবে সেটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার্থে কেবল বিআইডব্লিউটিএ-এর নবনির্মিত নির্ধারিত ট্রলার ঘাটেই নৌকা ও ট্রলার ভেড়ানো যাবে।

নৌপথের ওপর চাপ কমাতে এবার বসিলা ও শিমুলিয়া ঘাট থেকে নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের আগের ও পরের পাঁচ দিন (২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) নদীপথে বাল্কহেড ও বালুবাহী সবধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

রাতে স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দিনে চলাচলের সময় লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অন্তত চারজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন এবং সদরঘাটকে হকারমুক্ত করার মাধ্যমে একটি স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহায় নৌপথের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীপথে চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে ট্রলার ও নৌকা থেকে সরাসরি যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ১৮ মার্চের মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাকা সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব নৌঘাটে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নৌভ্রমণ নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই নির্দেশনাগুলো দেন।

মূলত নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা জারি করার মূল কারণ হলো টার্মিনাল পন্টুন ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে লঞ্চে যাত্রী ওঠানো বন্ধ করা। সদরঘাটে বার্থিং করা লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানো-নামানো এখন থেকে সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

গত ১৮ মার্চ সদরঘাটে অবৈধভাবে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানোর সময় দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সদরঘাট এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে।

কোনো লঞ্চ নিয়ম অমান্য করলে বা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ছাদে লোক তুললে তাৎক্ষণিকভাবে সেটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার্থে কেবল বিআইডব্লিউটিএ-এর নবনির্মিত নির্ধারিত ট্রলার ঘাটেই নৌকা ও ট্রলার ভেড়ানো যাবে।

নৌপথের ওপর চাপ কমাতে এবার বসিলা ও শিমুলিয়া ঘাট থেকে নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নৌপথে ঈদযাত্রার কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের আগের ও পরের পাঁচ দিন (২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) নদীপথে বাল্কহেড ও বালুবাহী সবধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

রাতে স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দিনে চলাচলের সময় লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অন্তত চারজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন এবং সদরঘাটকে হকারমুক্ত করার মাধ্যমে একটি স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে মন্ত্রণালয়।