ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী নেতৃত্বে সমন্বিত আওয়াজ তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 14

জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে নারী—পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা দূর করতে সমন্বিতভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার (২রা মে) নারীপক্ষের আয়োজনে ইউএন উইমেন আর্থিক সহযোগিতায় নরওয়ের সহায়তায় রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএতে ”জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ” শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য ও কর্মসূচী সদস্য ডা. নাজমুন নাহার।

প্রকল্প কার্যক্রমের পটভূমি তুলে ধরেন জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাসিমা আক্তার। বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের জাতীয় প্রক্রিয়া ও স্থানীয়করন তুলে ধরেন নারীপক্ষের সদস্য সামিয়া আফরীন।

আলোচনায় অংশ নেন ব্লাস্টের ব্যারিস্টার নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু, খান ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক ওমর খৈয়াম, বিএনপি’র খন্দকার ফারহানা ইয়াসমিন আতিকা, নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প পরিচালক তামান্না সিং বাড়াইক, বিবার্তা ২৪.কমের বিশেষ সংবাদদাতা আঙ্গুর নাহার মন্টি প্রমুখ।

তরুণ নারীদের নেতৃত্বের যাত্রায় নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নওশীন আনজুম, বর্ষা চাকমা প্রমুখ।

ডা. নাজমুন নাহার বলেন, তরুণ নারী নেতৃত্ব বিকাশ করা, বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তরুণ নারীদের কাছে তাদের ইস্যুগুলো পরিস্কার হওয়া, মেধা, দক্ষতা বৃদ্ধি. বিভিন্ন ফোরাম, রাজনৈতিক সভাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া। সেখানে তাদের কথাগুলো নিজ মুখে বলতে পারার অধিকার অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

নাসিমা আক্তার বলেন, রাজনৈতিক নেত্রীদের সাথে তরুণ নারী ও মেন্টরদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করাই আমাদের লক্ষ।

সামিয়া আফরীন বলেন, জেন্ডার সমতা শুধুমাত্র একটি মৌলিক মানবাধিকার নয়, বরং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধশালী এবং টেকসই বিশ্বের জন্য একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি। এসডিজি ৫ এ জেন্ডার সমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির সব লক্ষ্য অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারীর রা

জনৈতিক এবং দুর্নীতির জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার বিষয়গুলো। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি ভিত্তিক পরিকল্পনা দরকার।
নারী-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের প্রতি জোর দেন তিনি। সেসঙ্গে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদানেও গুরুত্ব দেন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নারীদের অনেকেই সামাজিক আন্দোলন, রাজনৈতিক কাজের জন্য নানা ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। কারো না কারো সহযোগিতায় তারা সেই কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে পেরেছেন। সেই সংঘতি আমরা কিভাবে তৈরি করতে পারি, সেটা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। তাহলেই আমরা এগুতে পারবো।

পারিবারিক, জনজীবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমতা অর্জন ও বৈষম্য নিরসনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সীমা দাস সীমু বলেন, এসডিসি গোল ৩ ও ১৬ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু গবেষণার অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ ছিল। কারণ মানুষের এসডিজি গোল সম্পর্কে ধারণাই নেই। ২০৩০ এর মধ্যে যে এসডিজি গোল বাস্তবায়ন করতে হবে এ সম্পর্কেও মানুষ অবগত নন।

তিনি বলেন, এসডিজি গোল ১৬ তে শান্তি ও ন্যায়বিচার, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু শান্তি নেই, ন্যায়বিচার পাওয়ারও আশা নেই। এক্ষেত্রে কাজ করতে হলে এসডিজির ৭টি ধারা সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলেই তা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

খন্দকার ফারহানা ইয়াসমিন আতিকার মতে, রাজনীতিতে মেয়েদের প্রথম বাধা আসে পরিবার থেকে। সেই বাধা পেরিয়ে যারা রাজনীতিতে আসতে পারেন, তারাই টিকে থাকতে পারেন।

তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করার প্রতি জোর দেন বক্তারা।

এছাড়াও সহিংসতা ও অপরাধ কমানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও ঘুষ কমানো, স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রাকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, ইউনিয়ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পরিকল্পনা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তি করার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী নেতৃত্বে সমন্বিত আওয়াজ তোলার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে নারী—পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা দূর করতে সমন্বিতভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার (২রা মে) নারীপক্ষের আয়োজনে ইউএন উইমেন আর্থিক সহযোগিতায় নরওয়ের সহায়তায় রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএতে ”জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ” শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য ও কর্মসূচী সদস্য ডা. নাজমুন নাহার।

প্রকল্প কার্যক্রমের পটভূমি তুলে ধরেন জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাসিমা আক্তার। বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের জাতীয় প্রক্রিয়া ও স্থানীয়করন তুলে ধরেন নারীপক্ষের সদস্য সামিয়া আফরীন।

আলোচনায় অংশ নেন ব্লাস্টের ব্যারিস্টার নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু, খান ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক ওমর খৈয়াম, বিএনপি’র খন্দকার ফারহানা ইয়াসমিন আতিকা, নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প পরিচালক তামান্না সিং বাড়াইক, বিবার্তা ২৪.কমের বিশেষ সংবাদদাতা আঙ্গুর নাহার মন্টি প্রমুখ।

তরুণ নারীদের নেতৃত্বের যাত্রায় নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নওশীন আনজুম, বর্ষা চাকমা প্রমুখ।

ডা. নাজমুন নাহার বলেন, তরুণ নারী নেতৃত্ব বিকাশ করা, বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তরুণ নারীদের কাছে তাদের ইস্যুগুলো পরিস্কার হওয়া, মেধা, দক্ষতা বৃদ্ধি. বিভিন্ন ফোরাম, রাজনৈতিক সভাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া। সেখানে তাদের কথাগুলো নিজ মুখে বলতে পারার অধিকার অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

নাসিমা আক্তার বলেন, রাজনৈতিক নেত্রীদের সাথে তরুণ নারী ও মেন্টরদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করাই আমাদের লক্ষ।

সামিয়া আফরীন বলেন, জেন্ডার সমতা শুধুমাত্র একটি মৌলিক মানবাধিকার নয়, বরং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধশালী এবং টেকসই বিশ্বের জন্য একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি। এসডিজি ৫ এ জেন্ডার সমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির সব লক্ষ্য অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারীর রা

জনৈতিক এবং দুর্নীতির জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার বিষয়গুলো। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি ভিত্তিক পরিকল্পনা দরকার।
নারী-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের প্রতি জোর দেন তিনি। সেসঙ্গে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদানেও গুরুত্ব দেন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নারীদের অনেকেই সামাজিক আন্দোলন, রাজনৈতিক কাজের জন্য নানা ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। কারো না কারো সহযোগিতায় তারা সেই কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে পেরেছেন। সেই সংঘতি আমরা কিভাবে তৈরি করতে পারি, সেটা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। তাহলেই আমরা এগুতে পারবো।

পারিবারিক, জনজীবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমতা অর্জন ও বৈষম্য নিরসনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সীমা দাস সীমু বলেন, এসডিসি গোল ৩ ও ১৬ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু গবেষণার অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ ছিল। কারণ মানুষের এসডিজি গোল সম্পর্কে ধারণাই নেই। ২০৩০ এর মধ্যে যে এসডিজি গোল বাস্তবায়ন করতে হবে এ সম্পর্কেও মানুষ অবগত নন।

তিনি বলেন, এসডিজি গোল ১৬ তে শান্তি ও ন্যায়বিচার, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু শান্তি নেই, ন্যায়বিচার পাওয়ারও আশা নেই। এক্ষেত্রে কাজ করতে হলে এসডিজির ৭টি ধারা সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলেই তা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

খন্দকার ফারহানা ইয়াসমিন আতিকার মতে, রাজনীতিতে মেয়েদের প্রথম বাধা আসে পরিবার থেকে। সেই বাধা পেরিয়ে যারা রাজনীতিতে আসতে পারেন, তারাই টিকে থাকতে পারেন।

তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করার প্রতি জোর দেন বক্তারা।

এছাড়াও সহিংসতা ও অপরাধ কমানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও ঘুষ কমানো, স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রাকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, ইউনিয়ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পরিকল্পনা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তি করার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।