ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো নোটিশ,গ্রেফতারও হতে পারে
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 9
ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এখন সিসি ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ডিএমপি; সময়মতো জরিমানা পরিশোধ না করলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মতো আইনগত ব্যবস্থাও আসতে পারে।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নজরদারির নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এখন থেকে রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙলে সরাসরি ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে আর মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে।
রবিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সেবা দ্রুততর করার অংশ হিসেবে এই ডিজিটাল প্রসিকিউশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সড়কে চলমান যানবাহনের ফুটেজ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা হচ্ছে। এরপর ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করে মালিক ও চালকের ঠিকানায় নোটিশ পাঠাচ্ছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ থাকছে।
তবে এখানেই বিষয়টি থেমে থাকছে না। নোটিশ পাওয়ার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাজির না হন, তাহলে পরবর্তী ধাপে সমন বা এমনকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে-যা বাস্তবায়ন করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
ডিএমপি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ শুধু শাস্তিমূলক নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি কাঠামোগত চেষ্টা। লালবাতি অমান্য করা, উল্টো পথে চলা, স্টপ লাইনের বাইরে গাড়ি রাখা, অবৈধ পার্কিং কিংবা যাত্রী উঠানামায় বাধা তৈরির মতো অপরাধ এখন সরাসরি ডিজিটাল নজরদারির আওতায় এসেছে।
একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে- এই ব্যবস্থাকে ঘিরে কোনো অসাধু চক্র যেন প্রতারণার সুযোগ না নেয়। সিসি ক্যামেরার মামলা বা জরিমানা পরিশোধের নামে কেউ অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে এআই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই এই ডিজিটাল মামলা প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এতে করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নজরদারির পরিধি বাড়লেও, নাগরিকদের জন্য নতুন এক ধরনের প্রশাসনিক চাপও তৈরি হতে পারে- এমন প্রশ্নও উঠছে।





































