গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ ৬
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 21
রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুর এলাকায় গ্যাস লাইনের ত্রুটি ও সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট পৃথক দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় সর্বমোট ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের প্রত্যেককেই উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরখানের ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উত্তরখানের একটি আবাসিক বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে এই আকস্মিক বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটে। এতে আলী হোসেন, তাঁর স্ত্রী হাসনাহেনা এবং তাঁদের তরুণী মেয়ে আঁখি গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান আহতদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে জানান, উত্তরখানের ঘটনায় চিকিৎসাধীন আলী হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গেছে। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী হাসনাহেনার ৬০ শতাংশ এবং মেয়ে আঁখির শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই তিনজনকেই বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধ দম্পতির ছেলে রাতুল হাসান তুষার গণমাধ্যমকে জানান, চিকিৎসকরা তাঁর বাবা ও মায়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় পরিবারটিতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, আজ শনিবার ভোরের দিকে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট অন্য এক বিস্ফোরণে আরও তিন যুবক গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। জানা গেছে, ঘরের ভেতর আগে থেকেই গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে ছিল, এবং ভোরে অসচেতনতাবশত দেশলাই বা লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরানোর জন্য আগুন জ্বালানোর মুহূর্তেই পুরো ঘরে বিকট শব্দে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরাজের শরীরের ১৫ শতাংশ, সুজনের ২৪ শতাংশ এবং বিপ্লবের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদেরও বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি পৃথক দুর্ঘটনাস্থলেই মূলত দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস লিকেজকে বিস্ফোরণের প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। এই বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কতৃপক্ষ আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।



































