বাঁধনের বিরুদ্ধে ইতালিতে অভিযোগ, তদন্তের আবেদন
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 286
বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে ইতালির ভেনিস পুলিশের বিশেষ তদন্ত শাখা ও সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে ১৬ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ-রেফারেল পাঠানো হয়েছে।
লন্ডন থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই অভিযোগে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কথিত যোগাযোগ, ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসূত্রের দাবি, শেনজেন ভিসা আবেদনে তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য দেওয়ার আশঙ্কা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ, আর্থিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগটি দাখিল করেছেন সুশান্ত দাস গুপ্ত। নথিটি ভেনিস পুলিশের সদর দপ্তরের বিশেষ তদন্ত শাখা ডিগোসের (DIGOS) দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এর একটি অনুলিপি ভেনিস ট্রাইব্যুনালের অধীন সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বাঁধনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বা ইসলামপন্থী কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে কথিত যোগাযোগের বিষয়টি সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান বেকারি হামলা এবং নব্য জেএমবি-সংক্রান্ত কোনো গোয়েন্দা, আর্থিক, যোগাযোগ বা বিচারিক নথিতে বাঁধনের নাম বা সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বাঁধনের সাম্প্রতিক ইতালি সফরে ব্যবহৃত শেনজেন ভিসা আবেদনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল ভিসা আবেদন, সহায়ক নথি, পরিচয় ও পাসপোর্টের তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আমন্ত্রণ বা উৎসব-সংক্রান্ত তথ্য, আবাসন, অর্থায়ন এবং প্রবেশ ও প্রস্থানের সরকারি রেকর্ড মিলিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগে বাঁধনকে ঘিরে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের একটি দাবিও উল্লেখ করা হয়েছে। একটি প্রকাশিত অভিযোগে একজন সাংবাদিকের প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ওই যোগাযোগ সত্যিই হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে এতে বাঁধনের কোনো নির্দেশ, অনুরোধ বা জ্ঞাত অংশগ্রহণ ছিল কি না, তা মূল যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বাঁধনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তার সাবেক স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেটের অভিযোগের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন মৌখিক ও মানসিক নির্যাতন, অপমান এবং আর্থিক চাপের শিকার হয়েছেন। ২০১৫ সালের একটি ঘটনায় বাঁধনের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাকে মারধরের অভিযোগ এবং বাঁধনের বিরুদ্ধে তার গাড়ির কাচ ভাঙার অভিযোগও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সনেট চিকিৎসা নেওয়া এবং পল্লবী থানায় মামলা করার কথাও জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
তবে বাঁধন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধেও পাল্টা নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এ কারণে অভিযোগপত্রে সংবাদমাধ্যমের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে পুলিশ অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি, চিকিৎসা নথি, গাড়ির ক্ষতির প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং আদালতের নথি সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবেক স্বামীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব, ঋণের নথি, সম্পত্তির দলিল, নির্মাণ ব্যয়ের কাগজপত্র এবং মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলকারী দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পুলিশি ও বিচারিক পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টতা নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে পুলিশ, আদালত, অভিবাসন, আর্থিক এবং প্রয়োজন হলে গোয়েন্দা নথির মাধ্যমে বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বর্তমানে অভিযোগ-রেফারেলটি ভেনিস পুলিশের ডিগোস শাখা এবং ভেনিস সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দাখিলকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তিস্বীকার ও রেফারেন্স নম্বরের অপেক্ষায় রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে আরও তথ্য ও সহায়ক নথি দেওয়ার কথাও অভিযোগে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ-রেফারেলে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে কি না বা অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে কি না, তা এ মুহূর্তে নিশ্চিত নয়।






























