ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / 56

ফারাক্কা লংমার্চের

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং প্রাকৃতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে দেশের সুশীল ও নাগরিক সমাজ। শনিবার (২৩ মে) সকালে আয়োজিত এক বিশেষ মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে পরিবেশবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অববাহিকা ভিত্তিক আঞ্চলিক চুক্তির ওপর জোর দেন। সমাবেশে বক্তারা জানান যে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং কৃষি ও জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে উজান থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে দেশের নদীমাতৃক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র এখন এক ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দেশের নদী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে কূটনীতির টেবিলে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূলত ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন শিরোনামের এই প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রথম সারির সমাজকর্মীরা স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনাকে নতুন করে সামনে এনেছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য এই দিনে এএলআরডি’র (ALRD) উদ্যোগে আয়োজিত সভা থেকে সরকারের প্রতি তীব্র তাগিদ দেওয়া হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নদী গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, তিস্তা বা গঙ্গার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তি কোনো দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, বরং নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করে অববাহিকা ভিত্তিক করা উচিত। বর্তমানে ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন এর মঞ্চ থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, মাওলানা ভাসানীর দেখানো দূরদর্শী পানি দর্শনকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। চুক্তিগুলোতে সুস্পষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশের প্রাকৃতিক নদীপ্রবাহ ধরে রাখার দাবি তোলা হয়।

নাগরিক সমাজ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যেকোনো মেগা প্রকল্প (যেমন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা পদ্মা ব্যারেজ) গ্রহণের আগে অবশ্যই স্থানীয় জনগণের মতামত ও জনপরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৬ মে তারিখকে ‘জাতীয় পানি অধিকার দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং প্রাকৃতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে দেশের সুশীল ও নাগরিক সমাজ। শনিবার (২৩ মে) সকালে আয়োজিত এক বিশেষ মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে পরিবেশবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অববাহিকা ভিত্তিক আঞ্চলিক চুক্তির ওপর জোর দেন। সমাবেশে বক্তারা জানান যে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং কৃষি ও জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে উজান থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে দেশের নদীমাতৃক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র এখন এক ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দেশের নদী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে কূটনীতির টেবিলে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূলত ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন শিরোনামের এই প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রথম সারির সমাজকর্মীরা স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনাকে নতুন করে সামনে এনেছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য এই দিনে এএলআরডি’র (ALRD) উদ্যোগে আয়োজিত সভা থেকে সরকারের প্রতি তীব্র তাগিদ দেওয়া হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নদী গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, তিস্তা বা গঙ্গার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তি কোনো দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, বরং নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করে অববাহিকা ভিত্তিক করা উচিত। বর্তমানে ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন এর মঞ্চ থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, মাওলানা ভাসানীর দেখানো দূরদর্শী পানি দর্শনকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। চুক্তিগুলোতে সুস্পষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশের প্রাকৃতিক নদীপ্রবাহ ধরে রাখার দাবি তোলা হয়।

নাগরিক সমাজ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যেকোনো মেগা প্রকল্প (যেমন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা পদ্মা ব্যারেজ) গ্রহণের আগে অবশ্যই স্থানীয় জনগণের মতামত ও জনপরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে ন্যায্য পানির দাবিতে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৬ মে তারিখকে ‘জাতীয় পানি অধিকার দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া।