জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 14
একটি আধুনিক ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি সেবার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রচলিত আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জমির বিরোধ মিটিয়ে মামলার জট কমানো এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিন দিনব্যাপী এই মেলা দেশজুড়ে একযোগে শুরু হয়েছে।
দেশের ভূমি খাতের জটিলতা দূর করতে এবং সাধারণ নাগরিকদের দোরগোড়ায় হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। তেজগাঁওয়ের অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মূলত জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই— সরকার প্রধানের এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের আবাসন ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ার নতুন আশা দেখা যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সেবা দেওয়া কোনো দয়া নয়, এটি জনগণের অধিকার।
সময়ের সাথে সাথে জমির শরিকানা বৃদ্ধি পাওয়ায় রেকর্ড সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই সংক্রান্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-নামজারি ও অনলাইন কর ব্যবস্থার কারণে ভূমি অফিসগুলোতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ হবে। সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য খতিয়ান ও পর্চা প্রাপ্তি সহজতর করছে।
দেশের আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা বিপুল সংখ্যক দেওয়ানি মামলার মূল কারণই হলো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। বর্তমানে জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন ৪৭ লাখ মামলার জট কমাতে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে আপস-মীমাংসা বা সালিশি ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।
বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি স্মরণ করে তিনি জোর দেন যে, শক্তির চেয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়াই শান্তি আনার সেরা মাধ্যম। পরিশেষে বলা যায়, এই তিন দিনের মেলা সাধারণ মানুষকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।































