জন-বাজেট সংসদ ২০২৬
জনঅংশগ্রহণে গণমুখী বাজেটের জোরালো দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 212
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ‘জন-বাজেট সংসদ ২০২৬’ শীর্ষক সংলাপ। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, উচ্চ ঋণভার এবং ভ্যাটের বাড়তি চাপের প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণমূলক ও গণমুখী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। শনিবার (৬ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ‘জন-বাজেট সংসদ ২০২৬’ শীর্ষক সংলাপে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, শ্রমিক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান।
ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বাড়া এবং কর্মসংস্থানের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ উন্নয়ন ব্যয়ের পরিসর সংকুচিত করছে।
সংলাপে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নীলর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আখতার, কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা। এছাড়া আন্তর্জাতিক ঋণ ও উন্নয়ন ইস্যুতে অনলাইনে বক্তব্য দেন এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কো-অর্ডিনেটর লিডি নাকপিল।
বক্তারা জাতীয় বাজেটে ন্যায্যতা নিশ্চিত, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনায় বর্তমান বাজেট কাঠামোকে অত্যন্ত কেন্দ্রীয় উল্লেখ করে জেলা বাজেট প্রবর্তন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বরাদ্দ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা উন্মুক্ত বাজেট সভা, সামাজিক নিরীক্ষা এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপরও জোর দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে ‘পিপলস বাজেট ডিক্লারেশন ২০২৬’ গ্রহণ করা হয়। ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক, কর্মসংস্থানমুখী ও জবাবদিহিমূলক বাজেট ব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজেট প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।






























