ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার কোরবানিযোগ্য পশু ১.২৩ কোটি, ঘাটতি শঙ্কা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 11

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সরকার; আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশুর প্রাপ্যতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রতি বছরই দেখা যায়, এবার সেটি কিছুটা কম হতে পারে—অন্তত সরকারি হিসাব তাই বলছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখের কিছু বেশি। সংখ্যার এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয়, সরবরাহে চাপ পড়ার কথা নয়—যদিও বাস্তব বাজার পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়, তা নির্ভর করবে নানা অনিশ্চয়তার ওপর।

রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব তথ্য তুলে ধরেন। গত বছরের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি স্মরণ করান—তখনও পশুর প্রাপ্যতা বেশি ছিল এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু অবিক্রীত থেকে যায়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এ বছরও বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার কথা নয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পশুর মধ্যে প্রায় ৫৭ লাখ গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখের বেশি ছাগল-ভেড়া রয়েছে। অন্য প্রজাতির সংখ্যা তুলনামূলক খুবই কম। এই বিভাজনটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভোক্তার পছন্দের ধরন বাজারে দামের ওঠানামাকে প্রভাবিত করে—বিশেষ করে শহর ও গ্রামে চাহিদার প্রকৃতি এক নয়।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকায় বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। বরং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু ঢোকা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় রাখা হবে। এতে একদিকে স্থানীয় খামারিরা কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারেন, অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে—যদিও বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, সেটি দেখার বিষয়।

সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কিছু পুরোনো ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পশু আনার জন্য বিশেষ ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সড়কপথে পরিবহন ও হাটে চাঁদাবাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে—যা প্রায় প্রতি বছরই শোনা যায়, কিন্তু অভিযোগও কম আসে না।

রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ২৭টি পশুর হাট বসবে। সেখানে ভেটেরিনারি সেবার জন্য একাধিক মেডিকেল টিম থাকবে। সারা দেশে হাটের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৭৮—সংখ্যাটা বড়, এবং তদারকির চ্যালেঞ্জও কম নয়। বড় হাটগুলোতে একাধিক টিম রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে অসুস্থ পশু শনাক্ত ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।

অনলাইনে পশু বিক্রির সুযোগ এবারও থাকছে, এবং এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগও রয়েছে—যা প্রায়শই অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে।

সরকারি প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাসের ছাপ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে ক্রেতা-বিক্রেতার আচরণ, পরিবহন ব্যয়, আর স্থানীয় বাস্তবতা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এবার কোরবানিযোগ্য পশু ১.২৩ কোটি, ঘাটতি শঙ্কা নেই

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সরকার; আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশুর প্রাপ্যতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রতি বছরই দেখা যায়, এবার সেটি কিছুটা কম হতে পারে—অন্তত সরকারি হিসাব তাই বলছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখের কিছু বেশি। সংখ্যার এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয়, সরবরাহে চাপ পড়ার কথা নয়—যদিও বাস্তব বাজার পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়, তা নির্ভর করবে নানা অনিশ্চয়তার ওপর।

রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব তথ্য তুলে ধরেন। গত বছরের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি স্মরণ করান—তখনও পশুর প্রাপ্যতা বেশি ছিল এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু অবিক্রীত থেকে যায়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এ বছরও বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার কথা নয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পশুর মধ্যে প্রায় ৫৭ লাখ গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখের বেশি ছাগল-ভেড়া রয়েছে। অন্য প্রজাতির সংখ্যা তুলনামূলক খুবই কম। এই বিভাজনটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভোক্তার পছন্দের ধরন বাজারে দামের ওঠানামাকে প্রভাবিত করে—বিশেষ করে শহর ও গ্রামে চাহিদার প্রকৃতি এক নয়।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকায় বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। বরং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু ঢোকা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় রাখা হবে। এতে একদিকে স্থানীয় খামারিরা কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারেন, অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে—যদিও বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, সেটি দেখার বিষয়।

সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কিছু পুরোনো ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পশু আনার জন্য বিশেষ ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সড়কপথে পরিবহন ও হাটে চাঁদাবাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে—যা প্রায় প্রতি বছরই শোনা যায়, কিন্তু অভিযোগও কম আসে না।

রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ২৭টি পশুর হাট বসবে। সেখানে ভেটেরিনারি সেবার জন্য একাধিক মেডিকেল টিম থাকবে। সারা দেশে হাটের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৭৮—সংখ্যাটা বড়, এবং তদারকির চ্যালেঞ্জও কম নয়। বড় হাটগুলোতে একাধিক টিম রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে অসুস্থ পশু শনাক্ত ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।

অনলাইনে পশু বিক্রির সুযোগ এবারও থাকছে, এবং এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগও রয়েছে—যা প্রায়শই অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে।

সরকারি প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাসের ছাপ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে ক্রেতা-বিক্রেতার আচরণ, পরিবহন ব্যয়, আর স্থানীয় বাস্তবতা।