ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 58

বাংলাদেশ আইন কমিশনের সীমিত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন খুবই কম, যা সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, গত দুই দশকে আইন কমিশনের পেছনে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যদিও কমিশন ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করেছে, এর মধ্যে মাত্র আটটি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবছর আট থেকে দশ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে এ ফলাফলকে তিনি অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন।

আইনমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, অবসরের পর কেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তার মতে, এ ধরনের চর্চা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদে নিয়োগ বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নেওয়ার মতো বিষয়ও বিচার বিভাগের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনজীবীদের মানোন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিক করা জরুরি। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

একটি অভিযোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পুনরায় আইন পেশায় ফিরে একটি মামলায় বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারে অভিযোগও হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, এ খাতে বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে তিনি বলেন, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইনমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ আইন কমিশনের সীমিত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন খুবই কম, যা সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, গত দুই দশকে আইন কমিশনের পেছনে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যদিও কমিশন ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করেছে, এর মধ্যে মাত্র আটটি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবছর আট থেকে দশ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে এ ফলাফলকে তিনি অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন।

আইনমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, অবসরের পর কেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তার মতে, এ ধরনের চর্চা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদে নিয়োগ বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নেওয়ার মতো বিষয়ও বিচার বিভাগের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনজীবীদের মানোন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিক করা জরুরি। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

একটি অভিযোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পুনরায় আইন পেশায় ফিরে একটি মামলায় বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারে অভিযোগও হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, এ খাতে বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে তিনি বলেন, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে পারে।