সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিহত করল বিজিবি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 53
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি স্থাপনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিরো লাইনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দেশের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এক জরুরি ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর বিএসএফ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর যেকোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত চুক্তি সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বদা জিরো লাইনে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো প্রতিবেশী দেশের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গের চেষ্টা করা হলে তা কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে মোকাবেলা করা অত্যন্ত জরুরি।
মূলত সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিহত শিরোনামের এই বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, আইন অমান্য করে সীমান্তে কোনো আধিপত্য বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না। শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধীন পানবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮১২-এর কাছে ভারতের অভ্যন্তরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান এবং বিএসএফের পক্ষে ছিলেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিনোদ কুমার। বর্তমানে সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিহত করার সপক্ষে ১৯৪৭ সালের সীমান্ত আইনের ধারা উল্লেখ করে বিজিবি স্পষ্ট জানায় যে, জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশই নতুন স্থাপনা গড়তে পারে না। অথচ সমস্ত নিয়ম অগ্রাহ্য করে বিএসএফ জিরো লাইনের মাত্র ৫০ গজের ভেতর জোরপূর্বক বাঁশের খুঁটি পোতার কাজ শুরু করেছিল, যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কড়া আপত্তি জানায়।
বিএসএফের পক্ষ থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে জমি অধিগ্রহণের জন্য সার্ভেয়ারদের মাপজোখের দাবি করা হলেও তারা জিরো লাইনের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। বর্তমানে সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিহত করার পাশাপাশি এই বৈঠকে সীমান্তে কোনো প্রকার পুশইনের মতো অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

































