ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমির হামজার বিস্ফোরক বক্তব্যে পাল্টা মন্তব্য

বাংলা অ্যাফেয়ার্স ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 43

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বক্তা মুফতি আমির হামজা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনার সময় মন্তব্য করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ওই বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভিডিও ওই বক্তব্যে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী তা না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে-আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।

তিনি বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।

এদিকে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন তিন দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তার বক্তব্যে প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর ভিত্তি করে। ধর্ম বর্ন জাতি গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। উনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি পাকিস্তান ইসলাম বিদ্বেষী ছিলো? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল? প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোন ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়নি। এখানে সকল ধর্মের মানুষ সেদিন দেশকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, আমির হামজা তো কার্যত এখন আর ইসলামী বক্তাই নয়, উনি রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশের অনক রাজনৈতিক বক্তাই এ জাতীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ওসব কিছু আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।

এদিকে, আমির হামজার বক্তব্যের বিষয়ে হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন। মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আমির হামজার বিস্ফোরক বক্তব্যে পাল্টা মন্তব্য

সর্বশেষ আপডেট ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বক্তা মুফতি আমির হামজা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনার সময় মন্তব্য করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ওই বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভিডিও ওই বক্তব্যে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী তা না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে-আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।

তিনি বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।

এদিকে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন তিন দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তার বক্তব্যে প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর ভিত্তি করে। ধর্ম বর্ন জাতি গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। উনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি পাকিস্তান ইসলাম বিদ্বেষী ছিলো? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল? প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোন ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়নি। এখানে সকল ধর্মের মানুষ সেদিন দেশকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, আমির হামজা তো কার্যত এখন আর ইসলামী বক্তাই নয়, উনি রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশের অনক রাজনৈতিক বক্তাই এ জাতীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ওসব কিছু আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।

এদিকে, আমির হামজার বক্তব্যের বিষয়ে হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন। মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।