লালমনিরহাটে রেলসেবা বিপর্যয়: ১৬টি ইঞ্জিনই মেয়াদোত্তীর্ণ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 85
উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র লালমনিরহাট বিভাগে বর্তমানে তীব্র লোকোমোটিভ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ২০ জোড়া ট্রেন চালানোর জন্য ৩০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও সচল আছে মাত্র ২১টি, যার মধ্যে ১৬টিই তাদের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হারিয়েছে। এই সংকট ও জরাজীর্ণ বগির কারণে বর্তমানে এই বিভাগে ৪টি ডেমো, ৭টি মেইল এবং ১৪টি লোকাল ট্রেনসহ মোট ২৫টি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগ বর্তমানে এক চরম অব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ের তথ্যমতে, ২০ জোড়া ট্রেনের সূচি ঠিক রাখতে ৩০টি লোকোমোটিভের প্রয়োজন হলেও বাস্তবে সেই সক্ষমতা নেই। সচল থাকা ২১টি ইঞ্জিনের অধিকাংশেরই পার্টস সংকট রয়েছে। ফলে অনেক সময় ছয়টি মোটরের পরিবর্তে মাত্র চার-পাঁচটি মোটর দিয়েই ট্রেন চালানো হচ্ছে, যা যান্ত্রিক ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। মূলত এই দীর্ঘদিনের লোকোমোটিভ সংকট উত্তরের রেল যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইঞ্জিন ও জনবল সংকটের প্রভাবে ইতোমধ্যে এই বিভাগে ২৫টি ট্রেনের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪টি ডেমো এবং ১৪টি লোকাল ট্রেন। বর্তমানে কুড়িগ্রাম শাটল, করতোয়া এক্সপ্রেস এবং বুড়িমারী এক্সপ্রেসের মতো সীমিত কিছু ট্রেন চলাচল করলেও সেগুলোর বগি জরাজীর্ণ। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো নেই এবং ফ্যানগুলোও নষ্ট হয়ে আছে। অতিরিক্ত গরমে লক্কড়-ঝক্কড় বগিতে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
১৮৭৯ সালে শুরু হওয়া লালমনিরহাট একসময় আসামের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী এক সমৃদ্ধ রেল জংশন ছিল। কিন্তু দেশ বিভাগের পর মোগলহাট রুট বন্ধ হওয়া এবং ২০০২ সালে রেলপথ পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে এটি গুরুত্ব হারাতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে এই বিভাগে সবসময় পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন কেবল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে কোনোমতে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। অবশেষে বলা যায়, দ্রুত নতুন ইঞ্জিন বরাদ্দ না দিলে এই লোকোমোটিভ সংকট পুরো বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।

































