ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / 38

গোপনে ইরানে সৌদি আরবের হামলা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানি ভূখণ্ডে ‘গোপন হামলা’ চালিয়েছে সৌদি আরব। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের ওপর ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদ এই পদক্ষেপ নেয়। যদিও সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, তবে সাম্প্রতিক এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় দিয়েছে। পরবর্তীতে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উভয় দেশ উত্তেজনা প্রশমনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের খবর প্রথমবারের মতো সামনে এসেছে। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানে বেশ কয়েকবার হামলা চালায়। মূলত ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা ছিল ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পাল্টা জবাব। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিয়াদ তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আক্রান্ত হলে তারা আর কেবল মার্কিন সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত এখন পশ্চিম এশিয়াকে গ্রাস করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা এবং আমিরাতের কঠোর অবস্থান এই অঞ্চলের সংঘাতের গভীরতা উন্মোচন করছে। তবে সৌদি আরব কৌশলগতভাবে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথও খোলা রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার পর এপ্রিলের শুরুতে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয়, যার ফলে সরাসরি হামলার মাত্রা কমে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই পাল্টা আঘাত কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইচ্ছা থেকে নয়, বরং আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং রিয়াদের নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। মূলত সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আগেই উভয় পক্ষ সংযত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। পরিশেষে বলা যায়, এই গোপন হামলা ও পরবর্তী সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে ‘ব্যালেন্স অফ পাওয়ার’ বা শক্তির ভারসাম্যের এক নতুন উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা

সর্বশেষ আপডেট ১১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানি ভূখণ্ডে ‘গোপন হামলা’ চালিয়েছে সৌদি আরব। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের ওপর ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদ এই পদক্ষেপ নেয়। যদিও সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, তবে সাম্প্রতিক এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় দিয়েছে। পরবর্তীতে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উভয় দেশ উত্তেজনা প্রশমনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের খবর প্রথমবারের মতো সামনে এসেছে। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানে বেশ কয়েকবার হামলা চালায়। মূলত ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা ছিল ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পাল্টা জবাব। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিয়াদ তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আক্রান্ত হলে তারা আর কেবল মার্কিন সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত এখন পশ্চিম এশিয়াকে গ্রাস করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা এবং আমিরাতের কঠোর অবস্থান এই অঞ্চলের সংঘাতের গভীরতা উন্মোচন করছে। তবে সৌদি আরব কৌশলগতভাবে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথও খোলা রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার পর এপ্রিলের শুরুতে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয়, যার ফলে সরাসরি হামলার মাত্রা কমে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই পাল্টা আঘাত কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইচ্ছা থেকে নয়, বরং আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানে সৌদি আরবের গোপন হামলা পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং রিয়াদের নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। মূলত সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আগেই উভয় পক্ষ সংযত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। পরিশেষে বলা যায়, এই গোপন হামলা ও পরবর্তী সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে ‘ব্যালেন্স অফ পাওয়ার’ বা শক্তির ভারসাম্যের এক নতুন উদাহরণ হয়ে থাকবে।