ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মির অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 110

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মির অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেলে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই মোবাইল ফোনে তাঁর যোগাযোগ ছিল। এর সূত্র ধরে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে জানিয়ে ওই শিক্ষককে নওগাঁ শহরের বাসায় ডেকে নেন মিলি।

পুলিশের ভাষ্য, শিক্ষক বাসায় পৌঁছানোর পর সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া চক্রের অন্য সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। পরে মারধরের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ওই শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেকও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে বা বাসায় ডেকে আনতেন। পরে ছবি তোলা, মারধর বা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মির অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেলে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই মোবাইল ফোনে তাঁর যোগাযোগ ছিল। এর সূত্র ধরে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে জানিয়ে ওই শিক্ষককে নওগাঁ শহরের বাসায় ডেকে নেন মিলি।

পুলিশের ভাষ্য, শিক্ষক বাসায় পৌঁছানোর পর সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া চক্রের অন্য সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। পরে মারধরের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ওই শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেকও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে বা বাসায় ডেকে আনতেন। পরে ছবি তোলা, মারধর বা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।