বাজেটে তামাকপণ্যে কর ও দাম বাড়ানোর দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 21
আগামী বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও দাম বাড়ানোর দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন করেছে তামাকবিরোধী সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সব ধরনের তামাকপণ্যের ওপর কর কাঠামো আরও কার্যকর করা এবং দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছে টাঙ্গাইলে এক মানববন্ধনে।
সোমবার (৪ মে) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওর (ডর্প)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তামাকবিরোধী কর্মী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিড়ি শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা।
আয়োজনে ডর্প-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জেবা আফরোজা বলেন, বাজারে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট থাকলেও নিম্ন ও মধ্যম স্তরের অংশই প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে আছে। তাঁর মতে, তুলনামূলক কম দামের কারণে এসব পণ্য সহজলভ্য হয়ে উঠছে এবং তরুণদের মধ্যে আসক্তি বাড়াচ্ছে।
তিনি বাজেট প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তর ১৫০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২০০ টাকা করার দাবি জানান। পাশাপাশি সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বজায় রেখে প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট কর ৪ টাকা আরোপের কথাও বলেন তিনি। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান শুরু থেকে বিরত থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সংখ্যক অকালমৃত্যু রোধ সম্ভব হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল আঞ্চলিক বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, সদস্য জয়নব বিবি এবং সাংবাদিক বোরহান তালুকদারসহ আরও অনেকে।
বক্তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম বেশি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের মতে, প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক চাপও কম নয়—২০২৪ সালে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
মানববন্ধনে বিড়ি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আলাদা দাবি উঠে আসে। তাঁদের বক্তব্যে বলা হয়, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি ও সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এসব পণ্য সহজেই হাতের নাগালে রয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। এতে ব্যবহারও কমছে না, বরং বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
শ্রমিকদের দাবি, তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। তাঁদের মতে, কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, সামাজিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
































