ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ডিসিদের কড়া নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 16

দেশজুড়ে পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতকে সক্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) সাংবাদিকদের এ কথা জানান। অধিবেশনটি ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে।

মন্ত্রী বলেন, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দেশের পর্যটন শিল্প—যেটি সম্ভাবনাময় হলেও এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা পর্যটনস্থলগুলোর উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার এবং নতুন দর্শনার্থী টানার উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়। মনপুরা ও নেত্রকোনার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত জায়গাগুলোকেও সামনে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল—সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে এসব এলাকা পর্যটনের মানচিত্রে নতুনভাবে জায়গা করে নিতে পারে।

মাঠপর্যায়ের প্রস্তাবগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে সুপারিশ এলে মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পর্যটকদের যেন কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে কক্সবাজার সৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। পর্যটন অভিজ্ঞতা কেবল অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না—পরিবেশের মানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, এমন ধারণা থেকেই এই নির্দেশনা এসেছে বলে মনে হয়।

সেন্টমার্টিন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী জানান, দ্বীপটি বছরের কিছু সময় বন্ধ রাখার বিষয়টি এদিন আলোচনায় না এলেও তা নিয়ে ভাবনা চলছে।

পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছুটা সমালোচনামূলক সুরেই তিনি বলেন, অতীতে এই খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে। এখন লক্ষ্য—এটিকে একটি কার্যকর শিল্প হিসেবে দাঁড় করানো। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সৈয়দপুরের সম্প্রসারণের কথা ওঠে। পাশাপাশি বগুড়ায় বিমানবন্দর ও একটি ফ্লাইং একাডেমি গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এতে ভবিষ্যতে দেশীয় পাইলট তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে—বিশেষ করে মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে সীমিত শিক্ষার্থীদের জন্য।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ডিসিদের কড়া নির্দেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

দেশজুড়ে পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতকে সক্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) সাংবাদিকদের এ কথা জানান। অধিবেশনটি ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে।

মন্ত্রী বলেন, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দেশের পর্যটন শিল্প—যেটি সম্ভাবনাময় হলেও এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা পর্যটনস্থলগুলোর উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার এবং নতুন দর্শনার্থী টানার উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়। মনপুরা ও নেত্রকোনার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত জায়গাগুলোকেও সামনে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল—সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে এসব এলাকা পর্যটনের মানচিত্রে নতুনভাবে জায়গা করে নিতে পারে।

মাঠপর্যায়ের প্রস্তাবগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে সুপারিশ এলে মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পর্যটকদের যেন কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে কক্সবাজার সৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। পর্যটন অভিজ্ঞতা কেবল অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না—পরিবেশের মানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, এমন ধারণা থেকেই এই নির্দেশনা এসেছে বলে মনে হয়।

সেন্টমার্টিন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী জানান, দ্বীপটি বছরের কিছু সময় বন্ধ রাখার বিষয়টি এদিন আলোচনায় না এলেও তা নিয়ে ভাবনা চলছে।

পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছুটা সমালোচনামূলক সুরেই তিনি বলেন, অতীতে এই খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে। এখন লক্ষ্য—এটিকে একটি কার্যকর শিল্প হিসেবে দাঁড় করানো। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সৈয়দপুরের সম্প্রসারণের কথা ওঠে। পাশাপাশি বগুড়ায় বিমানবন্দর ও একটি ফ্লাইং একাডেমি গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এতে ভবিষ্যতে দেশীয় পাইলট তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে—বিশেষ করে মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে সীমিত শিক্ষার্থীদের জন্য।