ববি ছাত্রদল কমিটির একাধিকপদে ‘ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টরা’
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 26
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে একাধিক ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের নতুন ঘোষিত কমিটি এখন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অনুমোদনে গঠিত ১২৭ সদস্যের এই কমিটিতে সহসভাপতি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে প্রকাশিত এই কমিটি ঘিরে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছে যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ড নিয়ে। সংগঠনের একাধিক নেতার দাবি, অন্তত ২০–২৫ জনকে এমনভাবে রাখা হয়েছে যাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে।
আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের আটকানোর পর একটি ঘটনায় দরজা ভেঙে একজনকে বের করে আনার মতো ঘটনাতেও জড়িতরা এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন—যা নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রদল নেতা জানান, এমন বিপুল সংখ্যক বিতর্কিত নাম যুক্ত হবে—এটা তাদের ধারণার বাইরে ছিল। তাদের মতে, এতে ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের কর্মীরা অবমূল্যায়িত হয়েছেন, যার ফলে সংগঠনের ভেতরে হতাশা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি-ভিডিও মিলিয়ে অন্তত একাধিক নেতার ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা হলেও প্রকাশ্যে এখন তা বড় বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
কমিটির ভেতরে উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি মিঞা বাবুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন, জিহাদুল ইসলাম, আরমান হোসেন, ইমরান, আব্দুল্লাহ নুর কাফি, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস, বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীরসহ আরও অনেকে।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি স্বীকার করছেন না কমিটি গঠনে যুক্ত দায়িত্বশীলরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত দাবি করেন, তালিকায় বিতর্কিত নামের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত পান।
তার মতে, কমিটিতে কিছু কাঠামোগত অসামঞ্জস্য রয়েছে—বিশেষ করে সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়ের ঘাটতি। তবে নতুন কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত পুরোপুরি নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যাদের ভূমিকা ছিল কিন্তু অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল—এমন কিছু ব্যক্তিকে শর্তসাপেক্ষে রাখা হয়েছে।
তার দাবি, যাদের নিয়ে বড় কোনো বিতর্ক নেই, তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়েছে।
































