ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে: চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ৪ জাহাজ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 42
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে চারটি বড় জাহাজ। শুক্রবার ও আগামী রোববারের মধ্যে এই বিশাল জ্বালানির চালান খালাস শুরু হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি অস্থিরতা কাটাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে পরিবহন ও কৃষি খাতের বিদ্যমান অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে।
দেশের জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটাতে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে বিপিসি। চট্টগ্রাম বন্দরে আজ থেকেই তিনটি জাহাজে করে বড় অংকের ডিজেল সরবরাহ শুরু হচ্ছে। জাহাজগুলো হলো—এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি এবং এমটি লিয়ান সং হু। এছাড়া আগামী রোববার চতুর্থ জাহাজটি বন্দরে পৌঁছাবে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন কমতে শুরু করবে।
বর্তমানে দেশে ডিজেলের যে মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে ১৩ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে নতুন করে আসা এই চালানের ফলে ডিজেল সরবরাহ আরও ১২ দিন বৃদ্ধি পাবে। বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১ লাখ ৪১ হাজার টন তেল যুক্ত হলে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টন। এর ফলে কর্তৃপক্ষ টানা ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। বর্তমানে দেশে মোট জ্বালানি চাহিদার ৬৩ শতাংশই পূরণ হয় ডিজেলের মাধ্যমে।
জাহাজগুলো থেকে দ্রুত তেল খালাস করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রাইড শিপিং লাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্ধারিত সূচি মেনেই জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়ছে। মূলত দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। এছাড়া কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন সচল রাখতে এই জ্বালানি বড় ভূমিকা রাখবে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪৩ লাখ টনেরও বেশি ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সরকার বর্তমানে যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে নিয়মিত আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। অবশেষে নতুন চালানের আগমনে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। সঠিক ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে পরিবহন ভাড়ার অস্থিরতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
































