ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ জনকে হত্যা: সবাইকে মেরে ফেলেছি, আমাকে আর পাবি না

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 30

৫ জনকে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ ৫ জনকে হত্যা করার পর পালিয়েছেন ঘাতক ফোরকান মিয়া।

শনিবার (৯ মে) সকালে তিনি তার স্বজনদের ফোন করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে জানান। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে ঘটে যাওয়া ৫ জনকে হত্যা-র ঘটনায় এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম (১৫), হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। সপরিবারে পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকলেও পারিবারিক নানা সংকটে জর্জরিত ছিল তাদের জীবন।

নিহত শারমিনের স্বজনরা জানিয়েছেন, ফোরকান তার ভাইকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর তোরা পাবি না’। মূলত এই ফোনের পরই স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সবার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এছাড়া নিহতের ফুফু দাবি করেন, শ্যালক রসুলকে নতুন চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে ফোরকান পরিকল্পিতভাবে এই ৫ জনকে হত্যা করেছেন।

স্বজনদের দাবি, ফোরকান দ্বিতীয় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। ইতিপূর্বে তিনি স্ত্রীকে মারধর করে হাসপাতালেও পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অভিযোগের কপিতে ফোরকান দাবি করেছেন যে, তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করেছিল। তবে নিহতের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে নিজেকে বাঁচানোর অপকৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সিআইডি ও পিবিআই ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। ফোরকান সকালে তার গ্রামের বাড়িতে কল করে খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশও প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। বর্তমানে পলাতক ফোরকানকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই ৫ জনকে হত্যা-র ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। অবশেষে বলা যায়, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অবক্ষয়ের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৫ জনকে হত্যা: সবাইকে মেরে ফেলেছি, আমাকে আর পাবি না

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ ৫ জনকে হত্যা করার পর পালিয়েছেন ঘাতক ফোরকান মিয়া।

শনিবার (৯ মে) সকালে তিনি তার স্বজনদের ফোন করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে জানান। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে ঘটে যাওয়া ৫ জনকে হত্যা-র ঘটনায় এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম (১৫), হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। সপরিবারে পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকলেও পারিবারিক নানা সংকটে জর্জরিত ছিল তাদের জীবন।

নিহত শারমিনের স্বজনরা জানিয়েছেন, ফোরকান তার ভাইকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর তোরা পাবি না’। মূলত এই ফোনের পরই স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সবার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এছাড়া নিহতের ফুফু দাবি করেন, শ্যালক রসুলকে নতুন চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে ফোরকান পরিকল্পিতভাবে এই ৫ জনকে হত্যা করেছেন।

স্বজনদের দাবি, ফোরকান দ্বিতীয় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। ইতিপূর্বে তিনি স্ত্রীকে মারধর করে হাসপাতালেও পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অভিযোগের কপিতে ফোরকান দাবি করেছেন যে, তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করেছিল। তবে নিহতের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে নিজেকে বাঁচানোর অপকৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সিআইডি ও পিবিআই ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। ফোরকান সকালে তার গ্রামের বাড়িতে কল করে খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশও প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। বর্তমানে পলাতক ফোরকানকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই ৫ জনকে হত্যা-র ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। অবশেষে বলা যায়, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অবক্ষয়ের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।