তেলের বাজারে চাপ কমাতে উৎপাদন বাড়াবে ৭ দেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 17
তেলের বাজারে চাপ কমাতে সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ ওপেক প্লাসভুক্ত কয়েকটি দেশ উৎপাদন বাড়ানোর পথে হাঁটছে।
বিশ্ব তেলের বাজার এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যখন সরবরাহের অনিশ্চয়তা প্রায় প্রতিদিনই নতুন মাত্রা নিচ্ছে। ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পর সেই অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাজারে চাপ কিছুটা হলেও কমাতে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়াসহ ওপেক প্লাসের সাতটি দেশ।
রোববার (৩ মে) ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান—এই সাত দেশ সম্মিলিতভাবে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুন মাস থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হবে, যার বড় অংশ আসবে সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে।
পটভূমিটা কিছুটা জটিল। সাম্প্রতিক সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ—যা বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট—সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এসব কারণ মিলিয়েই উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, ২৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণাও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি কেবল তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং সরবরাহ ঘাটতির সম্ভাবনাও কিছুটা ঠেকানোর চেষ্টা—এমন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালিকে ‘সংবেদনশীল করিডর’ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্সের মতে, বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই যায়—প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও বাজারে বড় প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি অতিক্রম করে, যার বড় অংশই এশিয়ার বাজারে পৌঁছায়। এই প্রবাহে বিঘ্ন ঘটলে তার অভিঘাত দ্রুত বৈশ্বিক দামে প্রতিফলিত হয়—সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যেন সেই আশঙ্কাকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি দামে চাপ স্পষ্ট। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৫ ডলারে, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।































